‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল পেজে হবে আয়ের খেল’
নিজের উদ্যোগে নিজেই একটা পেইজ খুলে শুরু করে দিয়েছেন আপনার ব্যবসা। এটা স্টার্টআপ
তাই এটা কোনো
যেন-তেন ব্যাপার নয়৷ অনেক প্ল্যানিং করে পরিচালনা করতে হয়। একজন ব্যবসায়ী তার বিজনেস নিয়ে যা কিছু করবে সেটাই হলো তার ইনভেস্টমেন্ট। ইনভেস্টমেন্ট শুধু টাকা নয় আপনি যে সময়টা ব্যবসায়ে দিবেন তা সময়ের ইনভেস্টমেন্ট,
যখন কথা
বলেন সেই
কথাও ইইনভেস্টমেন্ট, যখন পোস্ট করেন সেই পোস্টও ইনভেস্টমেন্ট, যখন
কমেন্ট করেন সেটাও ইনভেস্টমেন্ট। এই ইনভেস্টমেন্ট গুলো নিয়েই এনালাইসিস করতে হবে।
ব্যবসায়ে সফলতার মূল
মন্ত্র হলো পরিশ্রম, অধ্যবসায়, আন্তরিকতা, সততা, মানসম্মত পণ্য ইত্যাদি। যে কোন
কাজের সফলতা পেতে হলে লেগে থাকতে হবে। নিজের ব্যবসায়িক পেইজে আজকে একটা পোস্ট
করলাম পড়ে আবার ইনএকটিভ হয়ে এক সপ্তাহ পর গিয়ে আবার একটা পোস্ট। এটা পেইজের রিচ
কম করে দেয়। ব্যবসায়ে প্রোডাক্ট স্টকে যায় থাকুক বা না থাকলেও পেইজ একটিভ রাখতে হবে। নিয়মিত কিছু
পোস্ট করতে হবে।
ছোট ভিডিও পোস্ট করতে পারেন। মাঝে মাঝে লাইভ
করতে হবে।
প্রাসঙ্গিক
পোস্ট দিতে হবে।
কনটেন্ট
তৈরিতে পরিশ্রম করতে হবে। এমন কনটেন্ট দিতে হবে যা মানুষের জন্য উপকারী।
পেজের প্রতিনিয়ত অর্গানিক রিচ
বিশ্লেষণ করে যেতে হবে। পেজের ওপরের দিকে Insights অপশনে ক্লিক করলে ডানদিকে
Export Data দেখতে পাবেন। এই অপশনে গেলে Page data অপশন আছে। পোস্ট ডেটা থেকে বুঝতে পারবেন কোন ধরনের পোস্ট বেশি মানুষ দেখেছে
কিংবা বেশি পছন্দ করেছে।
√ একজন ব্যবসায়ীকে অনলাইনে ব্যবসা
সম্প্রসারণ করতে হলে কিছু জিনিস শিখতে ও জানতে হবে।
১। মার্কেট রিসার্চ টেকনিক
২। কম্পেটিটর রিসার্চ
৩। বিজনেস ক্যাটেগরি সিলেকশন
৪। প্রোডাক্ট সিলেকশন
৫। ব্র্যান্ড নেম সিলেকশন প্রসেস
৬। একটা ডোমেইন থাকার প্রয়োজনীয়তা
৭। ফেসবুক পেজ ক্রিয়েশন
৮। ইন্সটাগ্রাম একাউন্ট
৯। বেসিক গ্রাফিক ডিজাইন উইথ ক্যানভা
১০। মাইক্রোসফট অফিস প্যাকেজ ব্যবহার
করে ইনভয়েস এবং হিসাব নিকাশ করা
১১। ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন
১২। কাস্টমার সার্ভিস কিভাবে দিবেন
১৩। পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ
√ ব্যবসা শুরুর আগে যা যা প্রয়োজন:
১) ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ কম্পিটার
বা মোবাইল
২) ইনটারনেট সংযোগ
৩) মার্কেটিং দক্ষতা
৪) প্রোডাক্ট
৫) প্রোডাক্ট ডেলিভারি
৬) কিছু নিজস্ব কর্মচারী
√ পেইজের ইউজার নেইম:
একই নামে অনেক পেজ আছে তবে পেইজের ইউজার নেইম একটাই থাকে। বিজনেসের জন্য নাম
সিলেক্ট করে আগে দেখা উচিত পেইজের ইউজার নেইম খালি আছে কিনা। খালি থাকলে তারপর নাম
ফাইনাল করলে বিজনেসের নামটি ইউনিক ভাবে রাখা যায়।
পেইজের ইউজার নেইম সার্চ দিবার সিস্টেম আছে। @pagename লিখে মনে রাখতে হবে @ দিয়ে কোনো স্পেস হবে না।
যদি দুই শব্দ ও হয় তাহলেও স্পেস হবে না। সার্চ দেয়া সেই নামে যদি কোনো পেইজ রেজাল্টে
না থাকে তাহলে সেই নামে কোনো পেইজ নেই। আর যদি থাকে তবে সেই নাম না রাখাই ভালো।
√ অনলাইন মাধ্যমে ব্যবসা করলে পণ্য ডেলিভারিতে কিন্তু
কুরিয়ার সার্ভিস দরকার। আর তাই কুরিয়ার সার্ভিস সম্পর্কেও জেনে রাখা ভালো। যেমন:
১) সুন্দরবন,
২) এস. এ. পরিবহন,
৩) করতোয়া,
৪) ওমেক্স
৫) পাঠাও ইত্যাদি।
√ অনলাইন বিজনেসের সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলো:
অনলাইন বিজনেস করার অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে, এর মধ্যে কিছু ক্ষেত্র গুলোবেশি লাভজনক
হওয়ার সুযোগ রয়েছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম।
১) টি-শার্ট ডিজাইন এবং বিক্রয়
২) অনলাইন বুক স্টোর
৩) মেয়েদের ড্রেস, জুতো এবং এক্সেসরিজ
৪) ছেলেদের ড্রেস, জুতো এবং এক্সেসরিজ
৫) গিফট আইটেম ও শো-পিস বিক্রয়
৬) ইলেকট্রনিক আইটেম
৭) ইমপোর্ট করা পন্যের বিজনেস
৮) ফার্মেসী ও মেডিকেল প্রোডাক্ট
৯) খেলাধূলার সরঞ্জাম
১০) মাছ, মাংস কিংবা দৈনন্দিন বাজার ডেলেভারি সার্ভিস ইত্যাদি
√ প্লিজ চেক ইনবক্স নাকি কমেন্টেই দাম বলবো!
একজন কাস্টমার পেজে প্রোডাক্ট দেখবে, তারপর পছন্দ হলে দাম জানতে চাইবে। প্রোডাক্ট এর সাথে দাম লিখে না
দিলে বেশ কিছু কমেন্ট পাওয়া যায় তাই পোস্ট দাতা দাম না লিখে কমেন্ট দাতাকে মেসেজ দিয়ে
দাম জানায়। পাশাপাশি মেসেজের মাধ্যমে কিছু আলাপ করা যায় কাস্টমারের সাথে পণ্য
সম্পর্কে ধারণা দেয়া যায় এই আরকি।
দাম লেখা থাকুক আর না থাকুক যদি কারো প্রোডাক্ট
কিনার ইচ্ছে থাকে তাহলে সে দাম ইনবক্সে বা কমেন্টে দুইটার একটায় বললেও নিবে।
অনলাইন ব্যবসায়ে বিশেষ করে যারা পেজের
মাধ্যমে ব্যবসা করে তাদের বেশির ভাগই ইনবক্সে দাম বলার নীতিতে বিশ্বাসী। কোনো নতুন
উদ্যোক্তা যদি এই বিশ্বাস থেকে সরে আসে তবে তার ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিবে।
√ পেজের মাধ্যমে যারা অনলাইন
ব্যবসা করেন তাদের সকলেই পেজের বাটনের সাথে পরিচিত।
ফেসবুক পেজে বিভিন্ন ধরনের বাটন
এড করা যায়। যা কাজ কে সহজ করে দেই। পেজের বাটন গুলো নির্ভর করে পেজের ক্যাটাগরির উপর। যেমন public figure
page buttons, business page
buttons এর সাথে মিলবে না।
১) Shop now
২) book now
৩) get quote
৪) order food
৫) buy gift card
৬) call now
৭) contact us
৮) send email
৯) whats app
১০) sign up
১১) watch video
১২) use app
১৩) play game
১৪) Send message
১৫) Like, Follow, Share, Save
বাটনস গুলোর এক একটার কাজ এক এক রকম।
ফেসবুক মেইন এপ থেকে পেজ, পেজ এর উপরে কিছু অপশন থাকে More
এ ক্লিক,
নিচে দিকে " Edit page" তারপর "buttons "।
★
watch button
watch button এড করা থাকলে,
ওয়েবসাইট/ইউটিউব
এর লিংক দেওয়া থাকলে ভিজিটর পেজ এ
এসে এই
Watch button এ ক্লিক করলে ওয়েবসাইট / ইউটিউব যেটার লিংক দেওয়া থাকবে সেখানে চলে যেতে পারবে।
★
Sign up বাটনঃ
পেজের আওতায় কোন ওয়েবসাইট থাকলে তাহলে সাইন আপ লিংক এ ওই ওয়েবসাইট এড করে দেয়া যায়।
★Book
Now বাটনঃ
বিজনেস যদি বুকিং মেথড এর উপর ভিক্তি করে হয় তাহলে এটি এড করতে হবে।
★Shop
NOW বাটনঃ
যদি ওয়েবসাইট থাকে তাহলেই এড করতে হবে।
★
Call Now :
পেজ নাম্বার এড করতে হবে যোগাযোগ এর জন্য।
★
send email:
ইমেল এড্রেস যেখানে সহজেই কন্টেক্ট করা যাবে।
√ এখন আলোচনা করবো পেজের ট্যাব (Tab) অপসন নিয়ে।
এই সব ট্যাবে পেজের পোস্টগুলো
পোস্ট ট্যাবে থাকে। ভিজিটররা কোনো রিভিউ দিলে তা রিভিউ ট্যাব এ থাকে। ইভেন্টস গুলো
ইভেন্টেস ট্যাবে থাকে।
১) Home
২) Posts
৩)
Events
৪) Reviews
৫) Vedios
৬) Photos
৭) About
৮) Community
৯) Group
√ 3D picture:
পোস্ট কে আর্কষনীয় করতে ফেইসবুক এ 3D পিকের অপশন আছে। পোস্ট লিখলেন, গ্রুপ
বা পেইজের জন্য । এখন পোস্টে photo, camera, tag person, watch party এর নিচে লিখা আছে 3D photo. এবার
এটায় ক্লিক করলে, পিকচার সিলেকশন করতে অপশন দেয়া হবে, সিলেক্ট করার পর একটু সময়
নেয়, এরপর পোস্ট করলে পিকচারটি 3D picture
এ রূপ নিবে।
√ ছবির আয়তন:
ফেসবুক পেজ এর পোস্ট এ ছবি যুক্ত করলে ৫০৪×৫০৪ পিক্সেল এর মধ্যে থাকে। ছবি
আপ্লোড করার সময় ১২০০× ৬৩০ পিক্সেল এর ছবি
দেওয়া ভালো। ছবির জন্য পারফেক্ট সাইজ হলো ১২০০x৬২৭ পিক্সেল। যা পেজ এ ৪৭৬×২৭৯ পিক্সেল
দেখাবে।
অনলাইনে ব্যবসা বলুন বা দোকান-পাট নিয়ে ব্যবসা সবজায়গাই কাস্টমার কিন্তু কিং। কিং কে খুশি করলে কিং ও ব্যবসায়ীকে খুশি করে দিতে পারবে। কারণ কাস্টমার
নাই তো ব্যবসা কাদের নিয়ে করবেন, পণ্য তো কাস্টমারদের কাছেই বিক্রি
করতে হবে। আর কাস্টমার পণ্য কিনলেই ব্যবসা ঠিকে থাকবে।
Supti
Saha
Session:
2016-17
Department Of Accounting
