11 August, 2021

CRYPTOCURRENCY: THE FUTURE OF MONEY - MOHAMMAD TOWFIQUR RAHMAN KHAN

CRYPTOCURRENCY: THE FUTURE OF MONEY


        
Buying cryptocurrency may be an exciting way to explore new experimental investments. But cryptocurrency should carry a warning label like cigarettes: “This product may be injurious to the health of your finances. Never buy more than you can afford to lose.”

The term "cryptocurrency" is derived from the encryption technology used to protect the network. Cryptocurrency is a payment method that can exchange goods and services online. Cryptocurrency operates through a technology called blockchain. Blockchain is a decentralized technology spread across many computers that operates and archives transactions. It is extremely inconstant which makes the value vacillate drastically. According to data from the market research website coinmarketcap.com, there are 5898 different cryptocurrencies that are publicly traded. The global crypto market capital is $1.65 trillion, on August 1, 2021. Bitcoin is the most popular cryptocurrency, followed by other cryptocurrencies such as Etherum, Tether, Binance Coin and Cardano.

Over the past few years, cryptocurrencies have grabbed the headlines as well as the latest rumors. Cryptocurrency has boomed because of its ease of transfer. To trade cryptocurrencies between two parties, you don't need a third party or an intermediary. Not only as a currency but also as an investment, cryptocurrency is popular. Another reason people are drawn to cryptocurrencies is their value. Investing in cryptocurrencies is like investing in the stock market. In 2017, when Bitcoin was launched, it was worth around $100. Now, in 2021, Bitcoin has hit an all-time high of $62,000. Bitcoin's price is currently $41,711; on August 1, 2021. This growth is enough to attract people into investing cryptocurrency. Not only Bitcoin, but other cryptocurrencies like Ethereum, Litecoin, Dogecoin, and Cardano are following the same growth trend to become one of the most profitable cryptocurrencies on the market. Cryptocurrencies are secure. Cryptocurrencies are built on blockchain technology, designed for security and privacy. Transactions made can’t be easily traced as they involve navigating through a series of web transactions. Blockchain is open source that shows the level of security without being hacked. The only way to hack cryptocurrencies is for ecosystem companies to have weaknesses in their websites and provide relevant information that can be used to hack wallets, but in general, cryptocurrencies are largely safe and can be used for future use to long-term currency. The cost of using cryptocurrencies is very low. Banks and financial institutions charge for everything. Despite the market crash, the cryptocurrency market will continue to grow. As more and more companies and institutions like Elon Musk’s Tesla and software firm MicroStrategy welcome cryptocurrency, the possibility of cryptocurrency becoming a real payment method in the future will only increase. As the market is under correction, right now the sky’s the limit.

Cryptocurrencies have faced criticism for a variety of reasons, including their use for illegal activities, exchange rate fluctuations, and the fragility of their underlying infrastructure. However, they were also praised for portability, split ability, inflation resistance and transparency. China has warned investors about speculative cryptocurrency transactions, banning settlement companies with financial institutions from providing services related to cryptocurrency transactions. On the other side, later this summer, El Salvador will become the first country in the world to make a cryptocurrency legal tender alongside the US dollar. According to an analysis by the University of Cambridge, Bitcoin uses more electricity per year than in Argentina as a whole. "Mining" for the cryptocurrency is a power hungry task that involves many computer calculations to confirm a transaction. Cambridge researchers say they consume about 121.36 terawatt hours (TWh) annually. In Bangladesh, central bank of Bangladesh, Bangladesh Bank (BB) still considers that cryptocurrency carries financial and legal risks for its users. Bangladesh Bank asked people to refrain from transacting or trading of cryptocurrency as virtual coins are illegal under the laws of the country. Though central banks of some nations such as Japan, Singapore, the United Arab Emirates and the United States of America have officially accepted cryptocurrency recently. 


Buying cryptocurrency in 4 steps



The world is clearly divided about cryptocurrency. On the one hand, there are supporters such as Bill Gates, Al Gore and Richard Branson. They say that cryptocurrencies are superior to regular currencies. On the other side are people such as Warren Buffet, Donald Trump, Paul Krugman, and Robert Shiller, who are against it. Krugman and Shiller, who are both Nobel Prize winners in the field of economics, call it a Ponzi scheme and a means for criminal activities. "Bitcoin, it just seems like a scam," Mr. Trump said. He added that he wanted the dollar to be "the currency of the world". In the future, there will be a contradiction between regulation and individuals. As some cryptocurrencies are involved in terrorist attacks, governments will want to regulate the structure of cryptocurrencies. Meanwhile, the main standout for cryptocurrencies is the guarantee that users remain anonymous.

Futurists believe that by 2030, cryptocurrency will account for 25% of the national currency. This means that a significant part of the world will begin to believe in cryptocurrency as a method of transaction. It'll be more and more accepted by merchants and customers, and will continue to fluctuate in nature, which means that prices will continue to fluctuate, just like in the past few years.


MOHAMMAD TOWFIQUR RAHMAN KHAN
DEPARTMENT OF BANKING & INSURANCE
SESSION: 2016-17


Affiliate Marketing: Sifat Ahmed

এফিলিয়েট মার্কেটিং


বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, অনলাইনে উপার্জন করতে আগ্রহী, ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছে এমন যেকোনো ব্যক্তির কাছেই একটি অতি পরিচিত শব্দ এই এফিলিয়েট মার্কেটিং।

শুধুমাত্র আমেরিকাতে ২০২০ সালে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর বাজার ছিল প্রায় ৬.৮ বিলিয়নের ও বেশি। সেই সাথে ধারণা করা হচ্ছে ২০২২ সালে এই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ৮.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তার বেশি। গুগল ট্রেন্ডস অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত Affiliate Marketing নিয়ে সার্চ ইন্টারেস্ট বেড়েছে ২০০%। তাছাড়া আমাদের দেশে বিগত কয়েক বছরে এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে অনেক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং সেই সাথে এর ব্যবহারও শুরু হয়েছে যার ফলাফল আশার আলো দেখাচ্ছে।

কী এই এফিলিয়েট মার্কেটিং? কীভাবে করে? কারা করে? উপরের এতো এতো হিসাব দেখে মনের মধ্যে এমন প্রশ্ন অনেকবার আসার কথা। 


কী? 

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এফিলিয়েট মার্কেটিং/Affiliate Marketing হল কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রোডাক্ট অথবা কোন সেবা বিক্রি করে দেয়া, এবং প্রতিটি বিক্রয়ের বিপরীতে বিক্রয়ের মূল্যের ওপর % হারে কমিশন নেয়া।

ধরুন, আমাজন এর কোনো একটি প্রোডাক্ট যদি আপনার প্রমোশনের মাধ্যমে আপনার এফিলিয়েট লিংক ব্যবহার করে কেউ ক্রয় করে তাহলে ঐ প্রোডাক্টের উপর নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন আপনি পাবেন আপনার উপার্জন হিসেবে। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত করা হয়ে থাকে বিভিন্ন সোশিয়াল মিডিয়া, ওয়েবসাইট, ইউটিউব ও ব্লগিং সাইটের মাধ্যমে। অর্থাৎ আপনি যদি এফিলিয়েট মার্কেটিং এ আগ্রহী হন তাহলে আপনার উপরোক্ত প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিজের কন্টেন্ট এবং অডিয়েন্স থাকতে হবে। 





Figure: Affiliate Marketing Diagram

বিভিন্ন কোম্পানি কিংবা ই-কমার্স সাইটগুলোর সাথে মূলত এফিলিয়েট মার্কেটিং করা হয়ে থাকে। তাদের পণ্যকে নিজের কন্টেন্টের মাধ্যমে নিজের অডিয়েন্সের কাছে প্রমোট করা এবং এফিলিএয়েট লিংকের মাধ্যমে সেই প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয় করাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার একটি আকর্ষনীয় দিক হচ্ছে আপনি যতো বেশি খাটবেন আপনার উপার্জন সেই অনপাতে বাড়তে থাকবে। অর্থাৎ, আপনি যত বেশি পণ্যের প্রচার করতে পারবেন, পণ্য বিক্রয়ের সম্ভাবনা ততো বাড়বে এবং সেই সাথে আপনার উপার্জনও। 


কীভাবে শুরু করবেন? 

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি, কীভাবে করা হয় তার একটি প্রাথমিক ধারণা আপনারা ইতোমধ্যে পেয়েছেন। কিন্তু একজন বিগিনার হিসেবে বা একদম প্রাথমিক পর্যায়ে কিভাবে করবেন এবং আপনার কি প্রয়োজন হবে সেই ব্যপারে এখন আলোচনা করা হবে। 

  • এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য প্রথমে আপনাকে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে হবে। আপনি যদি আগে থেকেই একজন পাবলিক ফিগার হন, কিংবা আপনার যথেষ্ট পরিমাণ ফলোয়ার থেকে থাকে তাহলেও হবে। মূলত আপনার অডিয়েন্সের প্রয়োজন হবে এবং প্রচারের জন্য মাধ্যম প্রয়োজন হবে।

  • মোটামুটি প্রতিষ্ঠিত এবং ভালো সংখ্যক অডিয়েন্স আছে এমন ইউটিউব চ্যানেল, ফেইসবুক পেইজ, ব্লগ সাইট, ওয়েবসাইট ইত্যাদি মাধ্যমে নিজস্ব কন্টেন্ট প্রচারের সক্ষমতা থাকতে হবে।

  • যেকোনো অনলাইন শপ বা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম যারা এফিলিয়েট প্রোগ্রাম অফার করে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করে তাদের সাথে যুক্ত হতে হবে।

  • এফিলিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করার পর আপনাকে তাদের পণ্য বা সেবা প্রচার করার অপশন দেওয়া হবে। সেখান থেকে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের এফিলিয়েট লিংক তৈরি করে নিতে হবে।

  • তৈরিকৃত এফিলিয়েট লিংকটি আপনার কন্টেন্ট এর মাধ্যমে আপনার নির্ধারিত প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করবেন। মনে রাখার বিষয় হচ্ছে একেক মাধ্যমের জন্য এফিলিয়েট লিংক ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমনঃ ফেসবুকের জন্য একরকম, ইউটিউবের জন্য আরেকরকম। 

  • প্রতিষ্ঠানের পলিসি অনু্যায়ী এবং পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের পরিমাণের ভিত্তিতে আপনি আপনার একাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন এবং সেটি উইথড্র করতে পারবেন। 

বাইরের দেশে কন্টেণ্ট ক্রিয়েটর থেকে শুরু করে বিভিন্ন সোশিয়াল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রধান উপার্জন বর্তমানে এই এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং স্পন্সরশীপ। কিন্তু আমাদের দেশের কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের এখনও গুগল এ্যডসেন্স থেকে সামান্য উপার্জনই তাদের মুল উপার্জন। তবে বর্তমানে অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাথে যুক্ত হচ্ছে এবং খুব ভালো কাজ করছে। আশা করা যায় আগামী কয়েক বছরে আমাজনসহ আরো অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা শুরু করলে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর ব্যবহার আরো বাড়বে এবং তরুণরা সফলতা অর্জন করবে। 


Sifat Ahmed

Department of Human Resource Management

Session: 19-20

গ্রাফিতিঃ বিবর্ণ রাফি

 গলা সংকুচিত হয়, বুক ধড়ফড় করে,

চোখের মনি কোষ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসতে চায়,

কী তীব্র ঝাঁঝালো স্বর!

কী তীব্র আহ্বান! 

বুকে রক্তাক্ত গ্রাফিতি, 

মুখে বারুদ, মাথায় মগজ জ্বলছে মশাল হয়ে!


এই মিছিল সবার জন্যে উন্মুক্ত, 

সাদা কালো, নারী পুরুষ, 

জীবিত বা মৃত, 

জীবিত মানুষের স্রোত বড় হচ্ছে,

কবর থেকে সদ্য মৃত আর অর্ধগলিত লাশেরাও আওয়াজ দিচ্ছে,

সবার বুকে আঁকা গ্রাফিতি, 

কী তীব্রভাবে মগজের মশালে জ্বলছে!


এ মিছিল আবশ্যিক, 

জীবিত পিতার পাশে মৃত মেয়ে হাটছে,

হরেক রং কিংবা সাদা কাফন,

এই মিছিল সবার জন্যে উন্মুক্ত, 

বুকে বিঁধছে সিসার গোলা,

চারপাশে লাঠিচার্জ আর ঝাঁঝালো নাইট্রোজেন,

তবু ভ্রুক্ষেপ নেই,

বুকে আঁকা গ্রাফিতি, এ মিছিল থামবে না।


বিবর্ণ রাফি

ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যানেজমেন্ট। 

সেশনঃ ২০১৪-১৫।  

10 August, 2021

অন্ধকারঃ হৃদয় দাশ

 মানুষ আর মানুষ নেইকো,

পিশাচে ভরে গেছে সংসার।

দেখতে মানুষের মত হয়তো

হীনতায় রত তারা, করছে সংহার।


ধরনীকে করেছে তারা বিষাক্ত,

তারা কেবলই ভোগে আসক্ত।

মনুষ্য-মাংস ভক্ষণেও তৎপর

তারা আবার অতি-সভ্য হয়েও বর্বর।


ধরনী আজ দ্বিধায় মরে,

ধরনী আজ অন্ধকারে-

এসবের কারণ মনুষই মূল,

পথ হারিয়ে তারাই আবার খোঁজে কূল।


হৃদয় দাশ 

ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট। 

সেশনঃ ২০১৮-১৯ 

শাটল ও আমার একাকীত্বঃ অপরিচতা

 ২০১৭ সাল, আমি তখন হতাশার মাঝ পথে।  অর্থহীন জীবন ও প্রচন্ড বিষণ্ণতা আমাকে শীতের চাদরের মতো জড়িয়ে ধরেছিল। মনের সাথে এক বিরাট যুদ্ধ শেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সীট নিজের করে নিয়েছিলাম। জীবনটা বা প্রতিটা মূহুর্ত যখন অনুভূতিহীন ছিল,  সে সময় একটু শ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন মহান সৃষ্টিকর্তা। 

 কোন ধরনের অনুভূতি,  উত্তেজনা, ভাললাগা ছাড়াই নতুন বছরের প্রথম দিন ৩ নং বাসে করে অরিয়েন্টেশন ক্লাসে যায়।  আমার চেহারা,  ড্রেসে ফুটে উঠেছিল প্রচন্ড অবহেলার ছায়া।  যেন ছন্নছাড়া দরিদ্র পরিবারের মেয়ে অথবা নিপীড়িত কোন নারী।  সবকিছুই অটো মনে হতো।  মনে হতো আমি কোন পদার্থ।  অন্য কারো দ্বারা পরিচালিত হচ্ছি। খাওয়া দাওয়া,  ঘুম, ভার্সিটি আসা-যাওয়া,  ক্লাস করা,  নতুন কয়েকজন বন্ধুদের সাথে কষ্ট গুলো শেয়ার করা সবকিছু মনে হতো কোন রোবট দ্বারা চালিত হচ্ছে।  নতুনত্বে বরাবরই আমি দুর্বল।  নতুন বা পরিবর্তনে নিজেকে এডজাস্ট করতে পারিনা সহজে।  সাথে যোগ দিয়েছিল বিষণ্ণতা। 

 কয়েকমাস শুধু ক্লাসে গিয়ে বসে থাকতাম একটা বেঞ্চে।  ওই সীটে বসেই ক্লাস শেষে সরাসরি বাসায়।  খুব ইচ্ছে হতো বন্ধুদের সাথে কথা বলি বা করিডোরে গিয়ে তাদের সাথে আড্ডা দিতে।  কিন্তু কি যেন আমাকে বাঁধা দিতো।  মোটামুটি মিশুক আমি খেয়াল করলাম মানুষের সাথে কোন ভাবেই মিশতে মন সাঁই দেয়না। সবার মধ্যে ভার্সিটিতে সুযোগ পাওয়ার আনন্দ।  যে যার মতো উৎযাপন করছে।  আমি শুধু দেখতাম।  আমার মনে হতো আমার কিছুই হয়নি যেন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছি অনেক বছর হলো। এতটায় হীনমন্যতা এসেছিল যে বাসে যখন উঠতাম পাশে শাটল যাওয়ার সময় দেখে থাকতাম আর ভাবতাম শাটল কি সবার জন্য,  কীভাবে শাটলে যাওয়া যায়। সবকিছুই অদ্ভুত লাগতো।  দম বন্ধ হওয়া নিঃশ্বাস প্রতিবারই আমাকে আরো বেশি হীনমন্যতার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো।  খাঁচায় ছটফট করা পাখির মতো মুক্তির পথ খু্ঁজতাম।  

একদিন একজন বন্ধু কে সাহস করে বলেই ফেললাম আমাকে যেন শাটলে কীভাবে শহরে যায় দেখিয়ে দিতে।  সেদিন প্রথম শাটলে উঠা,  দিন বা তারিখ মনে নাই।  হসপিটাল বগিতে তার সাথে বসেছিলাম আর সাথে ছিল কলেজের পরিচিত কিছু বান্ধবী।  সেদিন শাটলের শেষ গন্তব্য নিউ মার্কেটে নেমে,  বাকিটা পথ বাসে করে বাসায় এসেছিলাম।  সেদিন শাটলের ভীড় আমাকে মুগ্ধ করেছিল,  জানালা দিয়ে বাহিরের সবুজ প্রকৃতি,  দরজায় বসা ছেলেমেয়েদের প্রকৃতি উপভোগ, চুল খোলে জানালার পাশে বসা মেয়ে গুলোর চোখেমুখে আনন্দ,  গলা ছেড়ে,  শাটলের গায়ে দু হাত দিয়ে তবলা বাজিয়ে গান গাওয়া সব, সব কিছুই আমি মুগ্ধ হয়ে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলাম।  মনে হচ্ছে নতুন কোন দেশে এসেছি,  মানুষ গুলোকে নতুন মনে হলো।  যাদের জীবনটা শুধুই আনন্দের।  এরপর পরিচিত কিছু বান্ধবী দের সাথে শাটলে আসা যাওয়া শুরু করলাম।  শাটলের প্রতিটা মূহুর্ত আমি সবার দিকে তাকিয়ে থাকতাম।  তাদেরকে বুঝতে চাইতাম।  ভাবতাম আমিই হয়তো একজন যার কাছে অন্ধকার এসেছিল। হৈচৈ,  গানের মাঝে ও মাঝে মাঝে শাটলের জানালা দিয়ে অদূর দিগন্তে মন চলে যেতো।  এত ভীড়ের মধ্যে ও বিষণ্ণতা আমাকে ছেয়ে যেত।  চারদিকে এতো বাতাস অথচ আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিনা।  আমার মনে গভীর হাহাকার চিৎকার করে উঠতো।  এত মানুষের মাঝে প্রচন্ড অসহায় লাগতো। মনে হতো কোন বহিরাগত,  বাকিরা চিনতে পারলে নামিয়ে দিবে সে ভয়ে জড়সড় হয়ে বসে আছি।  আমি আর পারছিনা নিজের সাথে যুদ্ধ করতে।  ভার্সিটি গেলে বাসায় আসার অস্থিরতা, বাসায় আসলে ভার্সিটি যাওয়ার অস্হিরতায় দিন গুলো কাটাচ্ছিলাম। 

 মানুষ থেকে দূরে দূরে থাকার প্রচেষ্টা হয়তো আমি নামক পদার্থ  অন্য এক পদার্থ কে হঠাৎ নিজের করে নিলাম।  শাটলের সেই এক ঘন্টা আস্তে আস্তে আমাকে সঙ্গ দিত। শাটলের বাইরে তাকিয়ে থাকা, ফসলি জমিগুলো ও রেলের পাশের বস্তিগুলো একে একে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া, মন ভরে সুর মিলিয়ে গাওয়া গান,  কাপলদের কেয়ারিং, শাটলে বসে পড়াশোনা,  বন্ধুদের গোল হয়ে আড্ডা দেওয়া গুলো আস্তে আস্তে উপভোগ করা শুরু করলাম।  শাটলের এই একঘন্টা অন্যদের ব্যস্ততা দেখে কেটে যেত।  কয়েকদিন পর মনে হলো আমার কেমন জানি হালকা অনুভব হচ্ছে ,  শীতল বাতাসের এক ছোঁয়া সারা শরীরে বয়ে যাচ্ছে।  প্রতিদিন খুব ভোরে উঠে তাড়াহুড়ো করে নিউ মার্কেট স্টেশনে সীট ধরতাম।  মাঝে মাঝে একা,  মাঝে মাঝে ক্লাসের বন্ধুদের সাথে বসতাম।তারা আনন্দ উল্লাসে সময়টা পার করতো আর আমি তাদের দিকে তাকিয়ে থাকতাম।  মাঝে মাঝে মুচকি হেসে তাদের সাথে এডজাস্ট করার চেষ্টা করতাম।  

এইভাবে ঘুম থেকে উঠে শাটলে করে ক্যাম্পাসে যাওয়া, ক্লাস করে আবার শাটলে করে বাসায় ফেরা।  এই রুটিনেই চলছিল দিনগুলো।  অনেক মাস হয়তো। ক্লাস শেষে বন্ধুরা যখন দল বেঁধে নতুন ক্যাম্পাস ঘুরতো, বাসায় ফেরার অস্থিরতা আমাকে  ঝেকে ধরতো।  বাসায় ফিরতে পারলেই যেন বাঁচি।  এই কারণে ক্যাম্পাসের অনেক জায়গা এখনো অদেখা রয়ে গেল। শাটলের সবার আনন্দের মূহুর্ত গুলো হয়তো আমাকে আস্তে আস্তে বিষন্নতা থেকে মুক্তির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল ।  তাদের দেখে মনে হতো জীবন টা কতো সুন্দর ও উপভোগের।  ১ম বর্ষের শেষ দিকে নিজেকে হালকা মনে হতে লাগলো।  ক্লাসের সবার সাথে মিশতে মন চাইতো,শাটলে পাশে বসা অপরিচিত কোন ফ্রেশারের  সাথে টুকটাক কথা বলতে ইচ্ছে হতো।  বন্ধুদের সাথে একসাথে আসতে মন চাইতো,  মাঝে মাঝে তাদের জন্য সীট ধরা।  

আমি আর একবার বাচার জন্য আশা করতে শুরু করলাম।  বাসায় আসলে যদিও বরাবরের মতোই হতাশায় ডুবে যেতাম,  সকাল হতেই অল্প আনন্দ,  অল্প আশায় খাওয়াদাওয়া শেষ করে শাটলের জন্য ছুটতাম।  নতুন ভালো লাগা আমার মন ছুঁয়ে যেত। আয়নায় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে মন চাইতো।  এইভাবে চলতে লাগল। নিজের চেষ্টা,  নতুন ব্যস্ততা,  নতুন পরিবেশ আস্তে আস্তে আমাকে হতাশা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে।  শাটল কে আমার বন্ধু মনে হতে শুরু করলো।  শুধু শাটলে যতক্ষণ থাকতাম ততক্ষণ অনেক ভালো লাগতো,  নতুন করে বাঁচতে মন চাইতো।  হ্যাঁ,  পাথর দিয়ে পিষে দেওয়া মানুষ গুলো থেকে যখন দূরে দূরে থাকতাম ভয়ে, তখন মনে হতো এই শাটলই একমাত্র আমাকে শেল্টার দিবে বেঁচে  থাকার।

 কৈশোরে প্রথম প্রেম যেমন ফাল্গুনের মৃদু  বাতাস। 


লেখকঃ অপরিচিতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)। 

শ্রমিকীয় ঈদঃ মো: জুনাইয়েদ শাহরিয়ার সাফি

 (১)

রাত প্রায় নয়টা বেজে গেছে। আছাদ মিয়ার হাত চলছেই। যেমনেই হোক আজ কাজটি শেষ করতেই হবে। ইট ভাঙ্গার শ্রমিক সে। বড়ই অভাব অনটনের সংসার। কাল ঈদ। অথচ জামা কিনা তো দূরের কথা, কাল ভাত রান্না করার জন্য চালের পয়সা ও নাই। তাই মহাজনের কাছে এসেছিল। যদি কিছু টাকা ধার দেয়। মহাজনের সাফ কথা কাজ ছাড়া একটাকাও তিনি কাউকে দিবেন না। তাই আজ ভোরবেলা থেকেই সে কাজ করছে। বাকি সব শ্রমিক বাড়ি চলে গেছে। রোজা রেখে ভোর থেকে ইট ভেঙ্গে চলেছে। মাঝখানে একটু পানি খেয়ে রোজা ভেঙ্গেছিল। এখন আবার কাজ করছে। মাঝে মাঝে মহাজনের সাগরেদ ছালামত এসে কাজ দেখে যাচ্ছে। তাড়া দিচ্ছে  কাজ শেষ করার জন্য।


(২)
-আম্মা, ও আম্মা,  আব্বা আইবোনা?'
-আইবো বাবা। দেখবি আইজ তোগো লাইজ্ঞা নতুন জামা লইয়া আইবো। একটু অপেক্ষা কর বাবা।
আছাদের আট বছরের ছেলেটি কাল রাত থেকে কিছু খায়নি। বাবা বাজার করে আনলে মা রাধবে তবেই খাবে। আপাতত নতুন জামার কথা শুনে আনন্দে পেটের ক্ষিদে  চাপা দিচ্ছে।
(৩)
আজ রনি সাহেব তার স্ত্রী - কন্যা নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। আজ তিনি নিজেই ড্রাইভ করে বাড়ি যাবেন। সকাল থেকেই হই-হুল্লোড় চলছে। ১০ টার দিকে রওনা দিয়ে দিলেন তারা। কোন জ্যাম না পড়লে রাত ১২ টার দিকে বাড়ি পোছাবেন। কাল ঈদ (ইদ)। তাই খুশি মনে বাড়ির পথে তিনি। এরই মধ্যে তার বাবা ৪ বার কল করেছেন। তার বাবা গ্রামের মহাজন। এত বেশি ব্যস্ততার মাঝেও তার খবর নিচ্ছেন বলে খুশিতে তার চোখ দিয়ে  পানি এসে গেছে। হাজার হলেও বাবার ভালোবাসা।
.


(৪) রাত ১১টা। আছাদ মিয়ার কাজ প্রায় শেষ। মহাজন বাড়িতে টাকার জন্য গেলেন তিনি। চকচকে ৫০০ টাকার তিনটি নোট দিয়ে মহাজন তার পিঠ চাপড়িয়ে বললেন এগুলা কাজের টাকা আর কিছুটা ঈদের বকশিশ।  ছেলে মেয়ে নিয়ে যেন ভালো করে ইদ করে।
টাকাগুলো পেয়ে আছাদ মিয়া যেন আকাশের সেই বাঁকা চাঁদ টা পেলেন। ছুটে গেলেন গঞ্জের দোকানে। বউ আর ছেলের জন্য একটা শাড়ি আর একটা লাল টুকটুকে শার্ট কিনলেন। ছেলেটা নিশ্চয়ই অনেক খুশি হবে। এরপর চাল কিনলেন। সবজি কিনলেন। চিনি সেমাই ও নিলেন। ঈদ তো আর প্রতিদিন আসে না। খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন। এইতো তার বাড়ি আর বেশি হলে ২০ মিনিট। গঞ্জের সামনে যে বড় সড়কটা আছে তার পাশে দিয়ে হেটেই যাওয়া যাবে।


(৫)
দরজায় খুট খুট আওয়াজ হচ্ছে। আছাদ মিয়ার বঊ বসা থেকে উঠলেন। ছেলেটা আজ রাতেও না খেয়ে ঘুমিয়েছে। তার বয়সী ছেলেদের তুলনায় অনেক দুর্বল সে। যাতে ভাত খেতে না হয় তাই সেও রোজা রাখে। দরজায় আওয়াজ হয়েই চলছে।
'আইতাছি' বলে দরজা খুলতে চললেন আছাদের বউ। যেতে যেতে চিন্তা করলেন আজই তার জামাইকে বলবেন কাজ করার কথা। তাহলে সংসারের অভাব হয়ত একটু কমবে। 
দরজা খুললেন। দরজায় দাঁড়িয়ে মহাজনের সাগরেদ নাফিজুল।
'-আন্নেরে মহাজনের বাড়িতে যাইতে হইবো'
-কিল্লাই?
-এখন কথা কইয়েন না। তাড়াতাড়ি চলেন।
-আইচ্ছে আইতাছি।
তাড়াতাড়ি করে মহাজনের বাড়ির দিকে চললেন আছাদের স্ত্রী। পথ যেন শেষ হচ্ছেনা । মহাজনের উঠানে ঢুকেই গগনবিদারী আওয়াজ করে কেঁদে উঠলেন। এ তিনি কি দেখছেন!!!
তার স্বামী আর নেই।  গঞ্জের রোড পার হওয়ার সময় মহাজনের ছেলে রনির গাড়ি ব্রেক ফেল করে মেরে ফেলেছে তার স্বামীকে। কাঁদতে কাঁদতে হেসে উঠছেন আছাদের স্ত্রী। আজ যে ঈদ। এদিন যে কারও কাঁদতে নেই।
সকাল হলো। সবাই ঈদের নামাজের পর জানাজা দিয়ে কবরস্থান এর দিকে চলল।
দূর থেকে মায়ের পাশে দাড়িয়ে দেখছে আছাদের ছেলেটা।  বাবার কিনে দেওয়া নতুন টুপি আর নতুন শার্টটা পরেই বাবার জানাজা পড়েছে সে। মায়ের কাছে ছোটকাল থেকেই সে শুনে এসেছে ঈদ নাকি অনেক খুশির দিন। এইদিন নাকি কাঁদতে নেই। কিন্ত তার কান্না আজ বাধ মানছে না। ক্ষনে ক্ষনে বাষ্প হয়ে উড়ছে সে গুলো। ফোলা ফোলা চোখে দিগন্তজোড়া আকাশের দিকে তাকালো সে। তার অবচেতন মন যেন খোদাকে জিজ্ঞেস করছে,  ' হে  খোদা, ঈদ কি সবার জন্যই আনন্দের?'

.

মোঃ জুনাইয়েদ শাহরিয়ার সাফি
ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।
সেশনঃ ২০১৭-১৮।

শিল্পের শৈল্পিকতাঃ তাসমুন নাহার সিপা

 কল্পনায় কাব্য রচনা 

ছন্দে ছন্দে পড়ার বাসনা, 

শিল্পের শৈল্পিকতা 

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা।


উৎসের সন্ধানে, ছন্দের যাদুঘরে, 

বিশ্ব ভান্ডারে, শব্দের খুঁজে, 

দুঃখ সুখের সংযোগে! 

শিল্পের শৈল্পিকতা

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা।


একসাথে উচ্চারিত কম সংখ্যাক শব্দ সমষ্টি নিয়ে পর্ব,

একটি শব্দ নিয়ে গঠিত অতিপর্ব। 

অনুষঙ্গ ক্রমে বলি একটা কথা, 

পরস্পর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বা সমান মাত্রা_

আনুষঙ্গিক পর্ব হয় বলা। 

শিল্পের শৈল্পিকতা 

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা।


অক্ষরের ধারণা থেকেই মাত্রার উৎপত্তি 

তাই মাত্রার প্রসঙ্গ পরেই টানি,

অক্ষর হলো একেবারেই উচ্চারিত বর্ণ সমষ্টি,

ক+লম্-কলম এটাকে উদাহরণ হিসেবে ধরতে পারি;


একটি শব্দের প্রতিটি অক্ষর একমাত্রা, 

বর্ণের পরিমাণের উপর নয়, বরং বলার ভঙ্গির উপর নির্ভর মাত্রার সংখ্যা,

শিল্পের শৈল্পিকতা 

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা। 


কাঁটা তারের খাঁচায় বন্দি পাখির মতই,

বন্ধাক্ষরে একাধিক বর্ণ বন্দি;

নীলভ আকাশে মুক্ত উড়ন্ত বিহঙ্গ, 

মুক্তাক্ষর’ একটি অক্ষরে একটি বর্ণ নিয়েই গঠিত।

শিল্পের শৈল্পিকতা 

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা।


মুক্তাক্ষর ও বন্ধাক্ষরে একমাত্রা,

ছন্দে ছন্দে পড়ার বাসনা,

প্রতিটি লাইনে সমসংখ্যক মাত্রা,

স্বরবৃত্ত ছন্দের কবিতা।


মাত্রাবৃত্ত ছন্দেও রচিত হয় কবিতা

তবে থাকতে হয়_বন্ধাক্ষরে দু'মাত্রা, মুক্তাক্ষরে একমাত্রা।


মুক্তাক্ষরে সেই সংজ্ঞায়িত একমাত্রা,

অবস্থান অনুসারে বদ্ধাক্ষরে এক বা দু'মাত্রা;

একমাত্রা শব্দের আদি কিংবা মধ্যে, 

যবনিকায় দু'মাত্রা, 

অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত সেই কবিতা।


শিল্পের শৈল্পিকতা

ফুটিয়ে তোলার অনুপ্রেরণা 

কল্পনায় কাব্য রচনা।


তাসমুন নাহার সিপা 

ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট। 

সেশনঃ ২০১৬-১৭


আজ কাল পরশুঃ জান্নাতুল ফেরদৌসী

 প্রদ্বীপ জ্বেলে বিলীন হব

ছায়ার ভীড়ে মুখ লুকাব

একপা দু'পা পিছপা হব

বেলায় বেলায় নিরাশ হব। 


হঠাৎ করে নিখোঁজ হব

আলোর মাঝে আঁধার হব

ভীষণভাবে একলা রব

যখনতখন পথ হারাব। 


সকাল বিকাল নিঃস্ব হবো

শূন্য ভরে শূন্য রবো

নিজর্নেতে নীর মুছিব

আমার আমি বেঢপ রব।


হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খাব

নতুন করে চোখ মেলিব

রাত্তিরে তোর পূন্যি হবো

মুঠোয় মুঠোয় সুখ বিলাব


একই সুরে সুর মিলাব

দারুণ সুখে চোখ বুজিব

সেই আশাতে বুক বাঁধিব 

এই সময়ের দিন গুনিব।

জান্নাতুল ফেরদৌসী 

ডিপার্টমেন্ট অব হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট

সেশনঃ ২০১৭-২০১৮

" Fashion Compose " - উম্মে হাবিবা

২০২০ সালের আগষ্টের ২১ তারিখে 'Fashion Compose' নিয়ে আমার উদ্যোক্তা জীবনে প্রবেশ।

হ্যান্ডপেইন্ট কাপড় নিয়ে এর যাত্রা শুরু। পরবর্তীতে নানা ধরণের গয়নাও এর সাথে সংযুক্ত হয়েছে।আরো নতুনত্ব আনার চেষ্টায় কাজ করছি।রুচিশীল  ডিজাইন তৈরিতে হ্যান্ডপেইন্টের কদর অনেক।শাড়ি,পাঞ্জাবী,ওড়না,কামিস,কূর্তি ইত্যাদিতে নিজস্ব এবং কাস্টমাইজড ডিজাইন করে থাকি।

ভালোবাসা এবং মানের রঙিন চিন্তাগুলো কাপড়ে ফুটিয়ে তুলে তৈরি করি অনন্য সৃষ্টি। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা থেকে এই ব্যবসা পরিচালনা করছি।
আত্নবিশ্বাস,বুদ্ধি,সৃজনশীল চিন্তাচেতনা কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মসংস্থান এবং পরিচিতি তুলে ধরাই প্রধান লক্ষ্য। হ্যান্ডপেইন্ট সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখে দেশীয় পন্যকে সমৃদ্ধি করে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

উদ্যোক্তাঃ উম্মে হাবিবা৷
ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।
সেশনঃ ২০১৭-১৮

" Fatema's Cake House " - সুমাইয়া জারনাজ

 Fatema's Cake House এর যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে।

বড় আপুর হাত ধরেই এই পথের হাতেখড়ি। ছোটবেলার থেকেই কেকের প্রতি নেশা আর নেশাকে যখন নিজের ইচ্ছে এবং স্বপ্নতে পরিণত করার সুযোগ পেলাম তখন আর হাতছাড়া করি নি।

জন্মদিনের কেক হিসেবে ভ্যানিলা/চকলেট কেক,রেড ভেলভেট কেক,রেইনবো কেক,ময়েস্ট কেক,ফন্ডেন্ট কেক ইত্যাদি খুব জনপ্রিয়। এছাড়াও রয়েছে কাস্টমাইজড কাপকেক,বিভিন্ন ফ্লেভারের জারকেক এবং পেস্ট্রি খুব সুলভ মূল্যেই।বিভিন্ন ধরণের মন পছন্দ ডিজাইন দিয়ে কেকের সৌন্দর্য বৃদ্ধির আপ্রাণ চেষ্টা করি। জন্মসূত্রেই চট্টগ্রামে বেড়ে ওঠা এবং বসবাস, তাই এই চট্টগ্রামকে ঘিরেই আমার ব্যবসার পরিসর চলমান রাখছি। আপাতত অনলাইনেই ব্যবসায়ের অর্ডার নিয়ে থাকি।

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল তাই নির্ভেজাল খাবার সরবরাহের  মাধ্যমে মানুষকে খুশি করাই হলো ব্যবসার প্রধান লক্ষ্য।এছাড়া নিজেকে আত্মনির্ভরশীল ও দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই নিজের কাজের মাধ্যমে।স্বপ্ন দেখি নিজের একটা সুন্দর কেকশপ থাকবে যেখানে মজাদার সব কেক আইটেম এ চারিদিক পরিপূর্ণ থাকবে।ইনশাআল্লাহ একদিন এই পৃথিবী ভেজালমুক্ত খাবারে আবৃত হবে।সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

উদ্যোক্তাঃ সুমাইয়া জারনাজ।
ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।
সেশনঃ ২০১৭-১৮

" শৌখিন সদাই " - সৈয়দা লোকতে জিগার।

 আমার ব্যবসায় উদ্যোগ "শৌখিন সদাই" এর যাত্রা শুরু হয় ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ এ।

অভিজ্ঞতা অর্জন আর কিছু উপার্জন এর ইচ্ছা থেকেই শৌখিন সদাইয়ের উৎপত্তি।এমন উদ্যোগের অনেক দিন ধরে ইচ্ছা ছিল।ভেবেছিলাম যদি কিছু করি নিজের উপার্জন দিয়েই করবো। পেন্ডেমিকে আমার খালাতো বোন একই ইচ্ছা পোষণ করে তখন  দুইজন মিলে জমানো অর্থ দিয়ে উদ্যোগটি নি।পরিবার এক্ষেত্রে আমাদের অনেক বড় সমর্থন হিসেবে কাজ করে।

ঘর সাজানোর শখ সবারই কিছুটা থাকে।তাই শৌখিন সদাই এর প্রথম পন্য ছিল ঘর সাজানোর লাইট।প্রথমে অনেক ভয় লাগতো কিন্তু পরে সাহস যুগিয়ে অনলাইন পেইজে  নতুন নতুন আকর্ষণীয় পণ্য বিক্রয় করতে থাকি এবং ভালো সাড়া পাই।একেকটা জিনিস বিক্রি করলে অন্যরকম উত্তেজনা কাজ করে এখনও। পেন্ডেমিকের কারনে পণ্য ক্রেতার কাছে পৌছে দেওয়াটা একটা বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু থেমে থাকেনি শৌখিন সদাই। নিজের গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সেপ্টেম্বরে ১ বছর পূর্ণ করবে।

যদি বলি একটা উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কি প্রয়োজন তাহলে আমি বলবো ইচ্ছাশক্তি আর সাহস। পরবর্তীতে যখন সবাই  আমার উদ্যোগের নাম দিয়ে পরিচয় দেয় তখন খুব ভালো লাগে,নিজস্বতা কাজ করে।

উদ্যোক্তাঃ সৈয়দা লোকতে জিগার।

ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট।

সেশনঃ ২০১৭-১৮

এই যে আমার শহর ঘুরাঃ বোরহান রাব্বানী

 এই যে আমার শহর হতে শহর ঘুরা

এই যে আমার ইস্টিশনে আনাগোনা

দিন পেরিয়ে অনেকগুলো কথা—

কথার কথা, খুচরা কথা, গল্প কথা, কল্প কথা অন্য কথা, ভিন্ন কথা এক জনমের পুঞ্জীভূত বেবাক যত কথা; আর এভাবেই রোজ চলতে থাকে স্মৃতির চাদর গাঁথা।

এই যে আমার শেষ ট্রেনে একা

দিন শেষে প্রায়ই ক্লান্তি নিয়ে ফেরা

এই যে আমার চোখের কোণে জল

ফিরতে গেলেই করছে টলমল। 

কোথায় যাবো এমন মায়া ছেড়ে?

ছাড়তে গেলে যাচ্ছে আরো বেড়ে!

এই যে আমি রাত্রি জাগি রোজ

এই যে আমি পত্রে করি খোঁজ

এই যে আমার নিঘুম রাতে একা

কান্না পেলে চাই যে তাহার দেখা।

এই যে আমার বুকের ভিতর জমাটবদ্ধ ব্যথায়

নির্বর্তিত আজগুবি সব কান্ডকারখানা

এসব কিছুর মধ্যে দিয়ে ছোট্ট একটা কথাই

বুঝিয়ে দেবার আদতে এক বিশাল বাহানা।

সে কি বোঝে? ভানে-অভিমানে

সে কি বুঝতে চায়?

দিনের শেষে সেও কি ঠিক জানে?

ভালোবাসার টানেই কেবল তার শহরে যাই। 


নামঃ বোরহান রাব্বানী

ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যানেজমেন্ট। 

সেশনঃ ২০১৭-১৮ 


তোমার রঙে রাঙাইঃ আজম মোহাম্মদ

যমুনার পাড়ে জোছনারাতি,

আছি দাঁড়িয়ে তোমার কাছাকাছি!

তোমার উষ্ণ নিঃশ্বাসে,আমার দৃঢ় বিশ্বাসে,

 দূরত্বের গল্পটা মিছেমিছি।  


এতো প্রেমের ফানুস,এত রঙের মানুষ, 

তবু তোমার রঙে নিজেকে রাঙাই,

অভিমানের শহর, অনুরাগের বহর আমি

শতঢঙে তোমার অভিমান ভাঙাই৷ 


কপালে চুমু এঁকে, তোমার গন্ধ গায়ে মেখে,

আদরে জড়িয়ে রাখি!

ঝুম বর্ষার সাঁঝে,বকুল,চুলের ভাঁজে-

প্রেমের চাদরে দু'জন ঘুমিয়ে থাকি! 


নামঃ আজম মোহাম্মদ।

ডিপার্টমেন্ট অফ ম্যানেজমেন্ট।

 সেশনঃ ২০১৫-১৬