06 September, 2020

জায়ান্ট অফ টোটাল ম্যানেজমেন্ট - রাহুল আশেকিন


 


জায়ান্ট অফ টোটাল ম্যানেজমেন্ট

 


 Supply Chain Management  টার্মটি বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ড লার্নারদের কাছে পরিচিত হলেও, মূলত: পণ্য উৎপাদন বা বিক্রয়ের সাথে জড়িত ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং কার্যক্রম এর একটি নেটওয়ার্ক হলো সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট।কার্যক্রমটির শুরু কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণ থেকে এবং শেষ হয় চূড়ান্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে।

 

উল্লেখ্য ঘটনার শুরু ১৯০৬ সালের কোন একটি সময়ে দুজন ভদ্রলোক দক্ষিন চীন প্রদেশের কুয়াংতুং প্রদেশের কুয়াংচৌ নামক শহরে রপ্তানি নির্ভর একটি ব্যবসা আরম্ভ করেন।ব্যবসাটি পরবর্তীতে চায়নার কমিউনিজম মুভমেন্ট,২য় বিশ্বযুদ্ধের মত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়।সেই সময়ে বিদেশী বণিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ফিল্ডে কোম্পানীটি ছিল প্রথম চায়নিজ রপ্তানিকারক।

 

প্রশ্ন জাগতে পারে, তৎকালীন ইংরেজ নিয়ন্ত্রিত আর্ন্তজাতিক বাজারে দু'জন নতুন চায়নিজ কিভাবে তাল মিলিয়েছিল?

 

এর উত্তর ওই দুজন ভদ্রলোক এর একজনের পরিচয়ের মধ্যেই রয়েছে,বলছি "Fung-pak-liu" নামে দুজনের একজনের কথা, যিনি পেশায় মূলত ছিলেন ইংরেজ শিক্ষক। চায়নিজ ফ্যাক্টরি মালিক এবং ইংরেজ বণিকদের মধ্যে 'ইন্টারপ্রিটার' হিসেবে (১৫% কমিশনে) কাজ করার দরুণ দুই দিকের বেশ ভাল নেটওয়ার্কিং সৃষ্টি হয়, নিঃসন্দেহে যা ভদ্রলোক দুজনের নিজের ব্যবসাতেও ভাল কাজ দিয়েছিল।

 

১৯০৭ সালেই তাঁরা বিনিয়োগকারী এবং আর্ন্তজাতিক ব্যবসায়ীদের নজর কাড়ে আতশবাজি তৈরী প্রক্রিয়ায় নতুনত্ব এনে। বলা বাহুল্য তৈরী প্রক্রিয়াটি এতটাই খরচ কমানো এবং প্রকৃতি বন্ধুসুলভ ছিল যে পরবর্তীতে এটি ইন্ড্যাস্ট্রি স্ট্যার্ন্ডাড হয়ে দাঁড়ায়।

 

লিখছি বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম সাপ্লাই চেইন জায়ান্ট কোম্পানি 'লি এন্ড ফাং' কে নিয়ে। চড়াই উৎড়াই পার হয়ে কোম্পানির দায়িত্ব যখন তৃতীয় প্রজন্মের (ভিক্টর, উইলিয়াম) হাতে পৌঁছায়,অন্তত ৩০জন স্বজন কোম্পানির ম্যানেজম্যান্টে থাকার দাবি করে বসে, এদের অধিকাংশই ছিল অদক্ষ। এ সমস্যার সমাধান এবং অদক্ষ পরিচালনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মালিকানা ও ম্যানেজমেন্ট দুটি আলাদা হয়ে যাওয়া প্রয়োজন হয়ে উঠেছিল। বলা হয়, প্রয়োজনতাই উদ্ভাবনের জনক, ১৯৭৩ সালে কোম্পানি হংকং স্টক এক্সচেন্জে নিবন্ধিত হয়ে সে পথেই হেঁটেছিল। আবার খুব সম্প্রতি, চলমান অর্থনৈতিক মন্দার কারণে 'ফাং' পরিবার কোম্পানির ধরন 'প্রাইভেটাইজ্ড' করতে সম্মত হয়.

 

এবার আসা যাক অংশে, প্রায় ১১৪ বছরের ইতিহাস এবং ৫৫০০ এর বেশি কর্মী নিয়ে পরিচালিত হয়ে আসা কোম্পানিটির বাংলাদেশেও একটি শাখা রয়েছে। শাখাটির উপর ৪৬০ জন মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব হিসেবে তাঁরা ১০০ জনের ও বেশি কর্মীদের ছাঁটাই করেছে। এই কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়েছিল ইদের আগে এবং ধারনা করা হয়েছিল ২৫%  থেকে বেড়ে ৫০% এ গিয়ে ঠেকবে।(কোম্পানী সোর্স)

 

 

 বাংলাদেশ শাখার মানব সম্পদ প্রধান জনাব জায়িদ হোসাইনকে এই ব্যাপারে কিছু বলার অনুরোধ করা গেলেও ভদ্রলোক মিডিয়া ডিপার্টমেন্ট সাজেস্ট করা ছাড়া আর কোনপ্রকার সাড়া দেন নি। "কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই কর্মী ছাঁটাই চলছে, অনেক ক্ষেত্রে পাওনা পরিশোধ না করেই।"বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মী। অন্যদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ২০ নং ধারায় যেসব নিয়ম কানুন উল্লেখ রয়েছে, তাঁর প্রতি কোন সম্মান প্রদর্শন না করেই এই ছাঁটাই কার্যক্রম চলছে। তাহলে,একটি উন্নয়নশীল দেশ বলেই কি বিষয়টি সম্ভব হচ্ছে? আভ্যন্তরীণ স্বার্থাণ্বেষী কোন মহল কি এর সাথে কোনভাবে জড়িত? নতুন করে সৃষ্টি হওয়া কিছু বাড়তি বেকারের চাপ একটি উন্নয়নশীল দেশ কিভাবে সহজে মোকাবিলা করবে ?প্রশ্নগুলোর গবেষণা নির্ভর উত্তর এখন সময়ের দাবী।

রাহুল আশেকিন

সেশনঃ ২০১৫-১৬

ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট