The Power of Time Management
ঘটনা-১ঃ ফাহিম ছোটবেলা থেকে Early to bed and Early to rise এই ধারণায় বিশ্বাসী।
তাই সে প্রত্যেকদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে।
সকালে উঠে তার টু-ডু
লিস্ট তৈরি করে ফেলে।
কাজের সময় প্রতি ২০-৩০
মিনিট অন্তর ৫ মিনিটের একটি ব্রেক নেয়।
পাশাপাশি
সে একাধিক টাইম ম্যানেজমেন্ট টেকনিক ব্যবহার করে থাকে।
সে একদিনে নানাবিধ কাজ করে থাকে যার কারণে বন্ধুমহলে প্রায়সময় তাকে নিয়ে আলোচনা হয়।
ঘটনা-২ঃ ফাহিমের বন্ধু ফারদিন সে প্রতিনিয়ত রাত জাগে এবং দেরী করে ঘুমাতে যায় এবং বেলা করে ঘুম থেকে উঠে।
প্রায়সময় তার কাজের কোন প্লান থাকে না৷ বেশিরভাগ সময় ফেসবুকের নিউজফিড এবং ইউটিউবে ভিডিও দেখতে দেখতে তার সময় কাটে৷
উপরের দুটি ঘটনা একটু খেয়াল করলে দেখবেন-প্রথম ঘটনাতে টাইম ম্যানেজমেন্ট টেকনিক ব্যবহার হয়েছে যেটি দ্বিতীয় ঘটনাতে অনুপস্থিত। Time
and Tide wait for none ইংরেজিতে
এই প্রবাদ বাক্যটি আমরা প্রায় সবাই শুনেছি।
পৃথিবীতে যারা সফল ও শ্রেষ্ঠ হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন।
আমেরিকার
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য চব্বিশ ঘন্টায় একদিন আবার আমার আপনার সবার জন্য চব্বিশ ঘন্টায় একদিন।
যে যত বেশি সময়ের সদ্ব্যবহার করবে সে অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
চলুন এখন টাইম ম্যানেজমেন্টের একটি অন্যতম কৌশল Eisenhower Matrix নিয়ে
আলোচনা করা যাক।
Eisenhower
Matrix: হলো আপনার কাজ এবং আপনার সময়কে অগ্রাধিকার এবং পরিচালনা করার কার্যকর একটি পদ্ধত।
চলুন এটি নিয়ে বিস্তারিত জানা যাক
sourcehttps://luxafor.com/the-eisenhower-matrix/
Do: আপনার জন্য যদি একটি কাজ গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি হয় তাহলে কাজটি আপনার এখনই করা দরকার।
ধরুণ আজকে দুপুর দুটায় আপনার একটি মিটিং রয়েছে।
এটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি।
তাই দুটায় মিটিংটাতে আপনার অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে হবে।
Decide:
একটি কাজ
আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জরুরি নয় সেক্ষেত্রে আপনি কাজটিকে শিডিউল করে রাখতে পারেন।
উদাহরণস্বরূপ আগামী মাসের ২০ তারিখে আপনাকে একটি ম্যাগাজিনে লিখা পাঠাতে হবে।
আপনি কোন দিন লিখবেন এবং কোন দিন পাঠাবেন তা লিখে রাখতে পারেন।
Delegate:
যদি একটি
কাজ আপনার জন্য জরুরি কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ না হয় তাহলে আপনি তা পরিচিত কাউকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
যেমনঃ আপনার পেইজের প্রমোশনের জন্য ভিডিও ইডিট করা দরকার।
যা সহজেই আপনি কাউকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারেন।
Delete: যে
কাজটি আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরি নয় তা পরিহার করতে হবে।
যেমনঃ সোশ্যাল মিডিয়াতে অযথা সময় ব্যয় করা।
ইংরেজিতে আরেকটি প্রবাদ রয়েছে Manage Your Energy So You Can Manage Your Time. কাজ করার জন্য আমাদের চার ধরনের এনার্জি বা শক্তির প্রয়োজন।
চলুন এই বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাক।
কর্মশক্তির প্রকারভেদ
১. শারীরিক
শক্তিঃ
"স্বাস্থই সকল
সুখের মূল"। এই প্রবাদটি আমরা সবাই শুনেছি।
শারীরিক শক্তি আমাদেরকে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম আমাদের শারীরিক শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।
২. মানসিক শক্তিঃ একজন মানুষ তার কাজের প্রতি তখনই মনোনিবেশ করতে পারেন যখন তিনি শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকেন।
তাই শারীরিক সুস্থতার মত মানসিক সুস্থতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বন্ধুবান্ধব অথবা পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো আমাদের মানসিক শক্তি প্রদান করে।
৩. আবেগময় শক্তিঃ মানুষের
আবেগ বিভিন্ন ঘটনার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে।
কাজ করার জন্য শরীর এবং মনের মত আমাদের আবেগের শক্তির প্রয়োজন।
আমরা আমাদের যা করতে ভালো লাগে এবং অন্যদের কাজের প্রশংসার মাধ্যমে অতি সহজেই আবেগময় শক্তি অর্জন করতে পারি।
৪. আধ্যাত্মিক শক্তিঃ
কাজ করার জন্য শরীর, মন
এবং আবেগের পাশাপাশি আমাদের আধ্যাত্মিক শক্তিও প্রয়োজন।
প্রত্যকের নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করার মাধ্যমে আমরা এই শক্তি অর্জন করতে পারি।
সময় ব্যবস্থাপনার কৌশলঃ কিছু কৌশল ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনি আপনার সময়কে দ্বিগুণ বা তিনগুণ কাজে লাগাতে পারবেন।
চলুন সেই কৌশল সমন্ধে জানা যাক।
১. প্রমোডোরো টেকনিকঃ সময় ব্যবস্থাপনা বা টাইম ম্যানেজমেন্টের অন্যতম একটি কৌশল।
এক্ষেত্রে ২৫ বা ৩০ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিটের একটি ছোট ব্রেক নেয়া হয় যা কাজের প্রতি মনযোগ এবং দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে থাকে।
২. টু ডু লিস্টঃ প্রত্যেকদিন কি কাজ করবেন তা আগের দিন বা প্রতিদিন লিখে রাখলে আপনার সময়ের অপচয় অনেকটা কম হবে।
এটা একটা রিমাইন্ডার হিসেবে কাজ করে।
টু
ডু লিস্ট করার জন্য ফোনের নোট অপশনটি ব্যবহার করতে পারেন।
এছাড়াও, Google
Keep টু ডু লিস্টের
জন্য একটি জনপ্রিয়
অ্যাপ।
এছাড়াও আপনার কাজকে আরো ঘুচিয়ে নিতে ব্যবহার করতে পারেন Trello অ্যাপ।
এখানে আপনি আপনার কাজকে-
- To do
- Doing
- Done
ক্যাটাগরিতে
ভাগ করে নিতে পারবেন।
যা আপনাকে আপনার অতীত, বর্তমান
এবং ভবিষ্যৎ কাজের ধারণা প্রদান করবে।
প্রতিনিয়ত সময় ব্যবস্থাপনার কৌশলসমূহ ব্যবহার করার মাধ্যমে আপনার কাজের অগ্রগতি বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার সময়ের সদ্ব্যবহার হবে।
চলুন আজকে থেকে শুরু করা যাক সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস।
মোঃ দিদারুল আলম
সেশনঃ ২০১৫-১৬
ডিপার্টমেন্ট অফ হিউম্যান
রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট
