গল্পের নাম: নির্দয়তা
পর্ব-২
পানির ঝাপটায় তার বাবার চশমাটা ঝাপসা হয়ে গেল।পায়জামার নিচের অংশটা ভিজে গায়ের সাথে লেপটে আছে।পান্ঞ্জাবির পকেট থেকে হাতড়ে চশমা পরিস্কার করার কাপড়টা বের করলেন।চোখ থেকে চশমাটা নামিয়ে যত্ন করে পানির ফোঁটাগুলো মুছলেন।চোখে চশমা পড়তে পড়তে আতঙ্কিত গলায় শাহাদাতের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন,
"এইটা কে?"
সে নির্লিপ্ত গলায় জাবাব দিলো,
"জানি না।"
এমন জবাব পেয়ে তার বাবা যেন দমে গেলেন।একপ্রকার হুঙ্কার দিয়ে আবারও প্রশ্ন করলেন,
"তুই কোলে নিয়ে বসে আছিস কিন্তু এটা কে তুই জানিস না?
সে আবারও একইভাবে জবাব দিলো,
"না, জানি না।"
তার বাবা রেগে গিয়ে আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
"ঠিক করে বল কে এইটা? তুই এতো রাতে একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস বিষয়টাতো আমার কাছে ভালো ঠেকছে না।"
চশমার কাঁচ ভেদ করে আগুনের কুণ্ডলীর মতো লাল হয়ে থাকা চোখজোড়া আবছা আলোতেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।সে বাবার লাল করা চোখজোড়ার দিকে অপলক চেয়ে থেকে বলল,
এই বাচ্চা কে! বাচ্চাটা কার! আমি কিছুই জানিনা।হ্যাঁ, শুধু এইটুকুই জানি এই বাচ্চাটা একটা মানুষ।তোমার মতো, আমার মতো রক্তে মাংসে গড়া।
এরপর সে অনর্গল সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা দিতে লাগল।মাঝখানে কোন থামাথামি করেনি।তার বাবাও এক জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে মনযোগ দিয়েই শুনছে।এতক্ষণ মাথার মধ্যে যেই উদ্ভট চিন্তাগুলো ঘুরাপাক খাচ্ছিলো সবগুলোর জট একে একে খুলছে। সব সংশয় ধীরেধীরে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে।ছেলেকে যতটা খারাপ এতক্ষণ মনে মনে ভেবেছিলো ততটা খারাপও না।তিনি নিজের উপর নিজেই লজ্জিত হলেন।দু'পা সামনে এগিয়ে শাহাদাত যেদিকটাই দাঁড়িয়েছে ঠিক সেখানেই ধপ করে বসে পড়লেন।ডানহাতটা দিয়ে বুকের বা'পাশটা চেপে ধরলেন। শাহাদাত সাথেসাথে বাবার পাশে বসে পড়ল।এক হাত দিয়ে বাচ্চাটিকে আগলে রেখে অন্য হাতটা বাবার কাঁধে রাখল।আর আতঙ্কিত গলায় জিঙ্গেস করলো,
"কী হয়েছে বাবা তোমার? এমন করছ কেন?"
তিনি কিছু বললেননা চুপচাপ কিছুক্ষণ বসেছিলেন।তারপর গভীর চিন্তা নিয়ে বললেন,
"নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছিস নাতো? এভাবে কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চাকে ঘরে নিয়ে যেতে চাচ্ছিস। পুলিশ কেস হতে পারে ভেবে দেখেছিস? দেখ সবসময় আবেগি হতে নেই।বিশেষ করে ছেলেদের বেশী আবেগি হতে নেই।তাদের সবকিছু চিন্তা করতে হবে বিবেক মিশিয়ে।আবেগও থাকবে বিবেকও এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
সে কিছু বললো না চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল সব কথা।আর কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করছিলো।হাজারো প্রশ্ন তার মাথায় উঁকিঝুঁকি মারছে।বাচ্চাটাকে সাথে নেওয়া কি ঠিক হবে নাকি হবেনা? কী করবে সে? কী করা উচিত তার এই মুহূর্তে? নিশ্চুপ পরিবেশটায় কেমন যেন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ভাব।ঝিঁঝিপোকারা অনবরত ঝিঁঝিঁ করে ডেকে যাচ্ছে।আশেপাশে দু'একটা কুকুর ঘেউঘেউ করে ডাকার শব্দ ভেসে আসছে।নীরবতাকে গ্রাস করে সে অনেকটা দৃঢ় হয়ে বললো,
"আমি বাচ্চাটাকে সাথে করে নিয়ে যাব।পুলিশের কাছে এখন গেলে কি আমাদের সন্দেহ করবে না? আমারতো মনে হয় রাত বিরেতে পুলিশ ষ্টেশনে গেলে আরও বড় ঝামেলা হবে।বিবেক খাটিয়েই বললাম।"
তিনি বললেন,
"তাহলে সিদ্ধান্ত নিযে নিয়েছিস সাথে করেই নিয়ে যাবি?"
সে বললো,
"হ্যাঁ।নিয়ে যাব।"
তিনি বললেন,
"জারজ বাচ্চা, বংশমর্যাদার কোন ঠিকঠিকানা নেই।এমন বাচ্চা নিয়ে ঘরে ঢুকলে ঘরের পরিবেশও ভারী হয়ে উঠবে।তোর মা এসব পছন্দ করেনা।ছেলে কার না কার জারজ সন্তান নিয়ে ঘরে ঢুকল এই আঘাতটা সহ্য করতে পারবেনা।রেখে যা এইখানে। এই শহরে অনেক অসহায় আছে যাদের একটা সন্তানও নেই। তারা এসে নিয়ে যাবে।তুই চিন্তা করিসনা কেউ না কেউ অবশ্যই নিয়ে যাবে।তুই নিয়ে কী করবি?"
সে বললো,
"জানিনা।"
তিনি আবার বলা শুরু করলেন,
"শুন সমাজের লোকেরা ছিঃছি করবে।ভাসা ভাসা শুনবে তুই জারজ সন্তান নিয়ে ঘরে এসেছিস এরপর শুরু হবে সবার কথা। সবাইতো আর জানতে চাইবেনা এইটা কার সন্তান মনে করবে তুই কুকাজ করেছিস।এদেশে আসল ঘটনার চেয়ে গুজব বেশী ছড়ায়।আর মানুষরাও আসল কথার চেয়ে গুজব বেশী বিশ্বাস করে।"
সে মৃদু হেসে তাচ্ছিল্য ভরা স্বরে বললো,
"যা বলবে বলুক।কোন সমাজের কথা বলছ? অন্যায় করে মাথা উঁচু করে চলতে দেওয়া সমাজের কথা! ভালো কাজে বাঁধা দেওয়া সমাজের কথা! প্রাণহানির ভয়ে অন্যায়ের পথে নিজেকে সুপর্দ করে দেওয়া সমাজের কথা! কোন সমাজের কথা?"
তিনি বললেন,
"দেখ তোর কথায় দুনিয়া চলেনা।বড় বড় কথা অনেক বলতে পারবি কিন্তু কিছুই করতে পারবিনা।"
সে বললো,
"যাইহোক আমি বাচ্চাটাকে এইখানে রেখে যাচ্ছিনা।মনুষত্ব্যবোধতা আমার কাছে এখনও আছে।আর এইটা তোমার দেওয়া শিক্ষা।আমি বাচ্চাটাকে সাথে না নিয়ে যাচ্ছিনা।এইখানেই বসে থাকব ঘরে যাবনা।তুমি চলে গেলে যাও।"
তিনি বুকের বা'পাশ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে দু'হাত মাথায় দিয়ে বসলেন।
"কি এক যন্ত্রণা!"
বেশ শব্দ করেই বললেন।নিজের দেওয়া শিক্ষার কাছে যেন নিজেই হেরে গেলেন।মিনিট দুয়েক তাদের মধ্যে আর কোন কথা হয়নি।তারপর কিছু না বলেই তিনি উঠে চলে যেতে লাগলেন।সে বাবার এইভাবে চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল দু'চার মিনিট। কিছুটা দূরে যখন চলে গেলেন তখন সে আর ঐদিকটায় দেখেনি।চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কেমন যেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে।তারপরও সে দৃঢ় হয়ে বসে রইল নিকষ কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে।
পানিতে ছপ ছপ শব্দ করে কে যেন আসছে সে তাকাচ্ছেনা।কুকুর হতে পারে। অনেক্ষণ ধরে কুকুরগুলো আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলো সেগুলোই হয়ত দৌড়ে অন্যদিকে যাচ্ছে।কিন্তু না তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল করে দিয়ে তার সামনে রাস্তার পানিতে দাঁড়িয়ে আছে তার বাবা।সে অবাক হয়ে বললো,
"বাবা? কিছুক্ষণ আগেইতো চলে গেলে আবার ফিরে এলে কেন?"
আয়শা সিদ্দীক
সেশনঃ ২০১৭-১৮
ডিপার্টমেন্ট অফ ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স
পানির ঝাপটায় তার বাবার চশমাটা ঝাপসা হয়ে গেল।পায়জামার নিচের অংশটা ভিজে গায়ের সাথে লেপটে আছে।পান্ঞ্জাবির পকেট থেকে হাতড়ে চশমা পরিস্কার করার কাপড়টা বের করলেন।চোখ থেকে চশমাটা নামিয়ে যত্ন করে পানির ফোঁটাগুলো মুছলেন।চোখে চশমা পড়তে পড়তে আতঙ্কিত গলায় শাহাদাতের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন,
"এইটা কে?"
সে নির্লিপ্ত গলায় জাবাব দিলো,
"জানি না।"
এমন জবাব পেয়ে তার বাবা যেন দমে গেলেন।একপ্রকার হুঙ্কার দিয়ে আবারও প্রশ্ন করলেন,
"তুই কোলে নিয়ে বসে আছিস কিন্তু এটা কে তুই জানিস না?
সে আবারও একইভাবে জবাব দিলো,
"না, জানি না।"
তার বাবা রেগে গিয়ে আওয়াজ বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
"ঠিক করে বল কে এইটা? তুই এতো রাতে একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছিস বিষয়টাতো আমার কাছে ভালো ঠেকছে না।"
চশমার কাঁচ ভেদ করে আগুনের কুণ্ডলীর মতো লাল হয়ে থাকা চোখজোড়া আবছা আলোতেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।সে বাবার লাল করা চোখজোড়ার দিকে অপলক চেয়ে থেকে বলল,
এই বাচ্চা কে! বাচ্চাটা কার! আমি কিছুই জানিনা।হ্যাঁ, শুধু এইটুকুই জানি এই বাচ্চাটা একটা মানুষ।তোমার মতো, আমার মতো রক্তে মাংসে গড়া।
এরপর সে অনর্গল সম্পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা দিতে লাগল।মাঝখানে কোন থামাথামি করেনি।তার বাবাও এক জায়গায় থমকে দাঁড়িয়ে মনযোগ দিয়েই শুনছে।এতক্ষণ মাথার মধ্যে যেই উদ্ভট চিন্তাগুলো ঘুরাপাক খাচ্ছিলো সবগুলোর জট একে একে খুলছে। সব সংশয় ধীরেধীরে হাওয়ায় মিশে যাচ্ছে।ছেলেকে যতটা খারাপ এতক্ষণ মনে মনে ভেবেছিলো ততটা খারাপও না।তিনি নিজের উপর নিজেই লজ্জিত হলেন।দু'পা সামনে এগিয়ে শাহাদাত যেদিকটাই দাঁড়িয়েছে ঠিক সেখানেই ধপ করে বসে পড়লেন।ডানহাতটা দিয়ে বুকের বা'পাশটা চেপে ধরলেন। শাহাদাত সাথেসাথে বাবার পাশে বসে পড়ল।এক হাত দিয়ে বাচ্চাটিকে আগলে রেখে অন্য হাতটা বাবার কাঁধে রাখল।আর আতঙ্কিত গলায় জিঙ্গেস করলো,
"কী হয়েছে বাবা তোমার? এমন করছ কেন?"
তিনি কিছু বললেননা চুপচাপ কিছুক্ষণ বসেছিলেন।তারপর গভীর চিন্তা নিয়ে বললেন,
"নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারছিস নাতো? এভাবে কুড়িয়ে পাওয়া বাচ্চাকে ঘরে নিয়ে যেতে চাচ্ছিস। পুলিশ কেস হতে পারে ভেবে দেখেছিস? দেখ সবসময় আবেগি হতে নেই।বিশেষ করে ছেলেদের বেশী আবেগি হতে নেই।তাদের সবকিছু চিন্তা করতে হবে বিবেক মিশিয়ে।আবেগও থাকবে বিবেকও এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
সে কিছু বললো না চুপচাপ শুনে যাচ্ছিল সব কথা।আর কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করছিলো।হাজারো প্রশ্ন তার মাথায় উঁকিঝুঁকি মারছে।বাচ্চাটাকে সাথে নেওয়া কি ঠিক হবে নাকি হবেনা? কী করবে সে? কী করা উচিত তার এই মুহূর্তে? নিশ্চুপ পরিবেশটায় কেমন যেন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ভাব।ঝিঁঝিপোকারা অনবরত ঝিঁঝিঁ করে ডেকে যাচ্ছে।আশেপাশে দু'একটা কুকুর ঘেউঘেউ করে ডাকার শব্দ ভেসে আসছে।নীরবতাকে গ্রাস করে সে অনেকটা দৃঢ় হয়ে বললো,
"আমি বাচ্চাটাকে সাথে করে নিয়ে যাব।পুলিশের কাছে এখন গেলে কি আমাদের সন্দেহ করবে না? আমারতো মনে হয় রাত বিরেতে পুলিশ ষ্টেশনে গেলে আরও বড় ঝামেলা হবে।বিবেক খাটিয়েই বললাম।"
তিনি বললেন,
"তাহলে সিদ্ধান্ত নিযে নিয়েছিস সাথে করেই নিয়ে যাবি?"
সে বললো,
"হ্যাঁ।নিয়ে যাব।"
তিনি বললেন,
"জারজ বাচ্চা, বংশমর্যাদার কোন ঠিকঠিকানা নেই।এমন বাচ্চা নিয়ে ঘরে ঢুকলে ঘরের পরিবেশও ভারী হয়ে উঠবে।তোর মা এসব পছন্দ করেনা।ছেলে কার না কার জারজ সন্তান নিয়ে ঘরে ঢুকল এই আঘাতটা সহ্য করতে পারবেনা।রেখে যা এইখানে। এই শহরে অনেক অসহায় আছে যাদের একটা সন্তানও নেই। তারা এসে নিয়ে যাবে।তুই চিন্তা করিসনা কেউ না কেউ অবশ্যই নিয়ে যাবে।তুই নিয়ে কী করবি?"
সে বললো,
"জানিনা।"
তিনি আবার বলা শুরু করলেন,
"শুন সমাজের লোকেরা ছিঃছি করবে।ভাসা ভাসা শুনবে তুই জারজ সন্তান নিয়ে ঘরে এসেছিস এরপর শুরু হবে সবার কথা। সবাইতো আর জানতে চাইবেনা এইটা কার সন্তান মনে করবে তুই কুকাজ করেছিস।এদেশে আসল ঘটনার চেয়ে গুজব বেশী ছড়ায়।আর মানুষরাও আসল কথার চেয়ে গুজব বেশী বিশ্বাস করে।"
সে মৃদু হেসে তাচ্ছিল্য ভরা স্বরে বললো,
"যা বলবে বলুক।কোন সমাজের কথা বলছ? অন্যায় করে মাথা উঁচু করে চলতে দেওয়া সমাজের কথা! ভালো কাজে বাঁধা দেওয়া সমাজের কথা! প্রাণহানির ভয়ে অন্যায়ের পথে নিজেকে সুপর্দ করে দেওয়া সমাজের কথা! কোন সমাজের কথা?"
তিনি বললেন,
"দেখ তোর কথায় দুনিয়া চলেনা।বড় বড় কথা অনেক বলতে পারবি কিন্তু কিছুই করতে পারবিনা।"
সে বললো,
"যাইহোক আমি বাচ্চাটাকে এইখানে রেখে যাচ্ছিনা।মনুষত্ব্যবোধতা আমার কাছে এখনও আছে।আর এইটা তোমার দেওয়া শিক্ষা।আমি বাচ্চাটাকে সাথে না নিয়ে যাচ্ছিনা।এইখানেই বসে থাকব ঘরে যাবনা।তুমি চলে গেলে যাও।"
তিনি বুকের বা'পাশ থেকে হাতটা সরিয়ে নিয়ে দু'হাত মাথায় দিয়ে বসলেন।
"কি এক যন্ত্রণা!"
বেশ শব্দ করেই বললেন।নিজের দেওয়া শিক্ষার কাছে যেন নিজেই হেরে গেলেন।মিনিট দুয়েক তাদের মধ্যে আর কোন কথা হয়নি।তারপর কিছু না বলেই তিনি উঠে চলে যেতে লাগলেন।সে বাবার এইভাবে চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল দু'চার মিনিট। কিছুটা দূরে যখন চলে গেলেন তখন সে আর ঐদিকটায় দেখেনি।চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে। কেমন যেন কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে ইচ্ছে হচ্ছে।তারপরও সে দৃঢ় হয়ে বসে রইল নিকষ কালো আকাশটার দিকে তাকিয়ে।
পানিতে ছপ ছপ শব্দ করে কে যেন আসছে সে তাকাচ্ছেনা।কুকুর হতে পারে। অনেক্ষণ ধরে কুকুরগুলো আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলো সেগুলোই হয়ত দৌড়ে অন্যদিকে যাচ্ছে।কিন্তু না তার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল করে দিয়ে তার সামনে রাস্তার পানিতে দাঁড়িয়ে আছে তার বাবা।সে অবাক হয়ে বললো,
"বাবা? কিছুক্ষণ আগেইতো চলে গেলে আবার ফিরে এলে কেন?"
আয়শা সিদ্দীক
সেশনঃ ২০১৭-১৮
ডিপার্টমেন্ট অফ ব্যাংকিং এন্ড ইন্স্যুরেন্স
