11 August, 2020

চাহিদাভিত্তিক পাঠক্রমের বিকাশ - আরশী হোড়

 


আরশী হোড়

সেশনঃ ২০১৭-১৮

হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট  

 

বর্তমানের করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশই বেড়ে চলেছে। করোনা যেমন হঠাৎ করেই এসেছে তেমনি হঠাৎ করেই চলে যাবে এমনটা ধরে যদি আগানো হয় তবে করোনা পরবর্তী টালসামাল অবস্থা সামলানো মোটেই সহজ হবেনা। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন কিছু ব্যবস্থা এখন থেকেই নেওয়ার।

 

করোনা পরবর্তী অবস্থার পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় ভাবছেন, করোনা পরবর্তী বিশ্বে বেকারত্বের সমস্যা মোকাবিলা করতে দেশের পরিশ্রমকারী ব্যক্তিবর্গের দক্ষতাকে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন। আর তা সম্ভব করতে আমাদের শিক্ষা সম্পর্কিত পাঠ্যক্রমে চাহিদাভিত্তিক বিকাশের জন্য আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। যদি আমরা তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে কর্মীদের দক্ষ করে তুলতে পারি তখনই তারা Fourth International Revolution (4IR) এর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারবে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর একটি ভার্চুয়াল ডিস্কাশনে, প্রফেসর শামস মাহমুদ বলেছেন,

আমাদের শ্রমিকদলের ২০% উৎপাদন শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আমাদের আরো অনেক দক্ষ শ্রমিক প্রয়োজন। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান কর্মক্ষেত্র বজায় রাখা এবং নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হবে। আর তাই আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত একটি দক্ষতা বৃদ্ধির ট্রেনিং মডিউল তৈরি করতে হবে যাতে আমরা পরবর্তী বিশ্বে দক্ষ জনশক্তির চাহিদা পূরণ করতে পারি।

আর আমরা অর্থাৎ যুবসমাজ যদি আধুনিক অর্থনীতির সাথে একীভূত হতে এবং মার্কেটে আমাদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে চাই তবে অবশ্যই সর্বব্যাপী ডিজিটাল কাঠামো তৈরি করতে হবে আর সেজন্য প্রয়োজন মাধ্যমিক পর্যায় থেকে আমাদের শিক্ষাগত পাঠ্যসূচির সংশোধন।

এছাড়াও সরকারের শনাক্ত করতে হবে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে কী কী দক্ষতার চাহিদা রয়েছে এবং পাঠ্যসূচির আধুনিকায়নে বৃত্তিমূলক এবং কর্মসংস্থান চালিত প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।

দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মিটিং এ ডেপুটি এডুকেশন মিনিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, বর্তমানে বৃত্তিমূলক ট্রেনিং এর গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। 

পূর্বে TVET (Technical and Vocational Education and Training) এর এনরোলমেন্টের হার ছিলো ০.১% যেটা বর্তমানে ১৭% এবং সরকার কাজ করে যাচ্ছে তা ৫০% করতে। করোনা পরবর্তী সময়ে প্রস্তুত থাকলে হলে আমাদের রিস্কিলিং এবং জব ড্রাইভেন স্কিল ট্রেনিং এ মনোযোগ দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিমান্ড বেসড স্কিল্ড গ্যাজুয়েটস তৈরি করতে কোয়ালিটিপূর্ণ টেকনিক্যাল শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থার গঠনগত পরিবর্তন, তথ্য প্রযুক্তির সম্পূর্ণ ব্যবহার করে 4IR এর জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

করোনা মহামারির প্রভাবে, মিডল ইস্ট,ওয়েস্টার্ন ইউরোপ এবং এশিয়ান রিজিয়ন থেকে অনেক মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কাররা ফিরে আসতে শুরু করেছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরির ব্যবস্থা ভবিষ্যতে দুষ্কর হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সরকার ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন,  টেকনিক্যাল শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বয়স বাঁধা থাকবেনা।  এক্ষেত্রে BMET এর ডিরেক্টর সাখাওয়াত আলি বলেছেন, BMET এর ৭০ টি প্রতিষ্ঠানে স্কিলড মাইগ্রেন্টসদের ট্রেনিং দেওয়া হবে। তাদের পেশার সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে একটি ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। যাতে স্বল্প দক্ষ মাইগ্রেন্টসদের ট্রেনিং দেওয়া যায় যা তাদের ভবিষ্যতে উপর্যুক্ত কাজ পেতে সাহায্য করবে।

এভাবে করোনা পরবর্তী বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এই চাহিদাভিত্তিক পাঠক্রমের বিকাশ হয়তো কিছুটা ভোগান্তি কমিয়ে আমাদের পথ মসৃণ করবে।