নাফিসা
আনজুম মৌলি
সেশনঃ ২০১৮-১৯
ব্যাংকিং এন্ড ইনসুরেন্স ডিপার্টমেন্ট
শিরোনাম দেখেই এতক্ষণে হয়তো সবাই বুঝে ফেলেছেন লেখার গতিপ্রকৃতি কোনদিকে যাবে। আবার হয়তো বোঝেননি!
আমরা আমাদের ভার্সিটি জীবনের প্রথম থেকেই কম বেশি শুনে আসি স্কিল ডেভলাপমেন্ট
এর কথা। স্কিল ডেভলাপমেন্ট টা
কি?
এটা হচ্ছে আমাদের কথা বলার ক্ষমতা, মানুষকে আমাদের পয়েন্ট বোঝানোর ক্ষমতা,
কোনো সমস্যা নিয়ে আউট অফ দা বক্স চিন্তা করতে পারা, সমস্যার সমাধান করতে পারা, স্ব স্ব ফিল্ডে
টেকনোলজিক্যালি অ্যাডভান্স থাকা এরকম ছোট বড় অনেক কাজ। বিজনেস ফ্যাকাল্টিতে এই স্কিল
ডেভেলপমেন্টের চর্চাটা তুলনামূলক বেশিই হয় বলা যায়। এবং আমি এই সব দক্ষতার প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে কর্মপটু হিসেবে
এই ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীদেরকেই দেখেছি। শুধু স্কিল ডেভলপমেন্টই না, এই ফ্যাকাল্টির শিক্ষার্থীদের
এভারেজ সিজিপিএ বেশ চোখে পড়ার মতো। তারই ধারাবাহিকতায় বিজনেস ফ্যাকাল্টির স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ
ধরা হয় গড়ে ৩.৫০। এবং
প্রতি বছরই এই স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বের হন। এখন এখানে লাখ টাকার প্রশ্ন
যেটা আসে সেটা হল এই স্ট্যান্ডার্ড সিজিপিএ ধারীদের সবাই কি স্কিলড? উত্তরটা সবার
জানা। আমি ব্যক্তিগত ভাবে
অনেককেই দেখেছি খুবই স্কিলফুল মানুষ কিন্তু সিজিপিএ ওই যাকে বলে স্ট্যান্ডার্ড
লাইনটা ছুঁতে পারেনি। আবার কিছু এমন মানুষ দেখেছি সিজিপিএ শুনলে মনে মনে সালাম চলে আসে কিন্তু
পড়ালেখার চাপে দক্ষতা বৃদ্ধি হয়ে উঠেনি। এবার আসি আমাদের নিয়ম মাফিক সিস্টেমে। ভালো ভালো জায়গায় আপনি
নিয়োগ লাভের আশায় যদি যেতে চান প্রথমেই চোখ বুলিয়ে নিতে হবে সিজিপিএ কন্ডিশন কি
তার উপরে। এবং বেশিরভাগ
ক্ষেত্রেই আপনাকে নিয়োগ পরীক্ষায় পদার্পণ করার জন্য ৩.২
থেকে শুরু করে ৩.৫ এমনকি এর বেশি সিজিপিএ ধারী হতে হবে। তাহলে চিন্তা করুন তো সেই
শিক্ষার্থীর কথা যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং, ইন্টেলেকচুয়াল অ্যানালাইসিস, পাওয়ারপয়েন্ট, এক্সেল, ওয়েব
ডেভলপমেন্ট, সি, পাইথনে বস কিন্তু সিজিপিএ
টেনেটুনে ৩.০০ এর কোঠায় সে কি করবে? এখন
শিক্ষিত সমাজ বলতে আসবেন ‘এত কিছু জেনে লাভ কী যদি সামান্য
সিজিপিএ টাই স্ট্যান্ডার্ড মার্জিনে রাখতে না পারা যায়; সিজিপিএ
ও একটা শিক্ষার্থীর অনেক বড় দক্ষতা!’ এখানেই আসলে বিতর্কের
বিষয়। এখনকার চাকরির বাজারে
দেখুনতো ভার্সিটি লাইফে পড়ে আসা কয়টা জিনিস লাগে? আপনি কি জবে বই খাতা নিয়ে কাজ
করবেন? এখানেও কিছু সামাজিক উক্তি চলে আসে! ‘কাজ জানলে সিজিপিএ কম হলেও ঠিকই শাইন করবে, দক্ষ
কর্মচারী না পেলে কোম্পানির লস, মানুষটার না!’ জ্বী আমিও একমত। কিন্তু একটু চোখ বন্ধ করে চিন্তা করলে বুঝা যায়, লোকসান দুই
পক্ষেরই! আপনাদের কি মনে হয় খালি চাকরিদাতার যোগ্য
প্রার্থীদের প্রয়োজন? না। চাকরি
গ্রহীতারও তার যোগ্য চাকরির পরিবেশ প্রয়োজন। একজন দক্ষ মানুষেরও তার দক্ষতা দেখানোর পরিবেশ লাগে, তার দক্ষতার
উন্নয়ন করার জন্য ক্ষেত্র লাগে। আজকে হয়তো কোনো নামী কোম্পানির জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে এবং
সিজিপিএ ৩.২০। হয়তো নিয়োগ কর্তারা জানবেও না ৩.০০ এর নিচে
পাওয়া অনেক পোটেনশিয়াল প্রার্থী কে তারা হারালো। আবার মন মত
কোথাও রিটেনটা দেওয়ারও সুযোগ না পাওয়ায় কোনো রকম ৯টা - ৫টা
জব করে সেই পোটেনশিয়াল প্রার্থীগুলো নিজেদের দক্ষতার সাথে জাস্টিস করতে পারলনা। সম্পূর্ণ
ব্যাপারটা একটি চক্র; একটি
অস্বাস্থ্যকর চক্র। অথচ
ইচ্ছা করলেই কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রে মেধা সমতা বজায় রাখা যায়। কী দরকার কোনো নির্দিষ্ট মান
বেঁধে দেওয়ার? উন্মুক্ত করুন না সবার জন্য চাকরির শর্তগুলো, উন্মুক্ত
করে দিন সবার জন্য পরীক্ষাগুলো। আপনার কোম্পানির জন্য তো অযোগ্য কাওকে নেবেন না; তো সবাইকেই
তার যোগ্যতা প্রমাণ করতে দিন। সিজির মার্জিন দিয়ে যোগ্যতা পরিমাপ বাদ দিন না! লাভ টা বেশি বৈকি কম হবেনা আপনাদের।
আর যদি এরকম না করতে পারেন যোগ্যরা ঝরে যাবে, সম্ভাবনাগুলো ঝরে যাবে; শীতকালের ঝরা পাতার মতো!!
