আজম
মোহাম্মদ
সেশন:
২০১৫-২০১৬
ম্যানেজমেন্ট
ডিপার্টমেন্ট
হ্যালো...হ্যালো...হ্যালো...
কী
হলো, শুনতে পাচ্ছো না তুমি? ওরা আমাকে আজ দেখতে আসবে! অনেক কষ্ট করে নীতার ফোন থেকে
ফোন করেছি। কী হলো...শুনতে পাচ্ছো না তুমি? কিছু একটা তো বলো!
এই
মুহূর্তে একটি টংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এক হাতে ধোঁয়া উঠা গরম চা’য়ের কাপ অন্যহাতে
মুঠোফোন। কানের কাছেই অরুর উদ্বেগ মেশানো কন্ঠস্বর। ওপাশ থেকে এক নাগাড়ে বলে যাচ্ছে
ও। আমি চুপ করে শুনে যাচ্ছি একান্ত শ্রোতার মত। আমাকে কিছু একটা বলতে বলছে। কী বলব
আমি? এই তো সেদিনের কথা। একটা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে কাজ করতে গিয়ে পরিচয়। পুরোনাম
অরুণিমা। আদর করে শুধু আমিই ডাকি অরু। শ্যামবর্ণের মেয়েটির মধ্যে একটা গভীর টান আছে।
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াতাম আমরা। বাচ্চাগুলো ওকে বেশি ভালবাসতো।
কী
হলো তোমার? তুমি কি কোনোদিন ও সিরিয়াস হবা না? আমিই আসলে তোমার সাথে নিজেকে জড়িয়ে পাপ
করেছি! পাপের প্রায়শ্চিত্ত ঈশ্বর আমাকে দিচ্ছেন! বলতে বলতে ওর গলা ধরে এলো। এতক্ষণে
ঘনকালো মেঘ হতে অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে! আঁখির জলে আজ গঙ্গা প্লাবিত হচ্ছে। মেয়েটির বড্ড
অভিমান! তাকে বেড়াতে না নিলে তার কোমল হাত ছুঁতে মানা! তার গোলাপী ঠোঁট স্পর্শ করা
আমার জন্য নিষিদ্ধ! আমার এলোচুলে সিঁথি কাটে না সে। প্রতিবার তাকে নিয়ে শহরের অলিগলি
ধরে ছুটতে হয়! আজকেও ওকে নিয়ে ছুটতে হবে। ইমারতের নগর পেরিয়ে বহুদূর পালাব আজ। অরু,
শুনছ...?
না,
কেউ শুনছে না। বুঝা গেল লাইন কেটে দিয়েছে। হাজারবার ফোন দিয়েও আর পাওয়া যাবে না ওকে!
মেয়েটির
ভালবাসায় আমি এতদূর আসতে পেরেছি। আমাকে সে তিলে তিলে তার ভালবাসায় বিনির্মাণ করেছে।
আকাশে
আজ ভরা পূর্ণিমা। জোছনায় প্লাবিত হচ্ছে সমস্ত ঘাট-বাট। যমুনার পাড়ে দু’জন দাঁড়িয়ে।
হিম বাতাস ছুঁয়ে যাচ্ছে আমাদের। নদীর জল ছলকে ছলকে উঠছে। যমুনার বুকে একটি ছোট্ট তরী
দোল খেতে খেতে চলছে উদ্দেশ্যহীন। অজানায় চোখের কোণে একটি অশ্রুবিন্দু টলোমেলো করছে।
আজ থেকে আমরা আলাদা হলাম! আজ থেকে ওরা এক হলো!
মুহূর্তেই
চোখ মেলে দেখলাম অরু ঘুমাচ্ছে। কী মায়াবী লাগছে তাকে! ঘুমালে মেয়েদের দেবীর মতো লাগে।
ওর কপোলে চুমু এঁকে আবার চোখ বুজলাম। আমাকে এমনি করেই ভালবেসো, জড়িয়ে ধরে বলল অরু।
কোত্থেকে একটা টিকটিকি টিক টিক করে উঠল। নিশুতি রাতে আমরা দু’জনই হেসে উঠলাম।
