করোনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক ভারসাম্য
বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্তের এক বছর পূর্ণ হল কিছুদিন আগে। এই এক বছরে মানুষের জীবনধারা সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে। কেউ এই পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে, কেউ পারেনি। যারা পারেনি তারা মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে; বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা।
বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কথাবার্তা বলা নিয়ে একপ্রকার ট্যাবু কাজ করে। কেউ খোলাখুলি ভাবে নিজের মনের কথা বলতে পারেনা। ডিপ্রেশন ব্যাপারটা কেউ গুরুতরভাবে নেয়না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলে পাগল উপাধি দিয়ে দেয়। এভাবে মানসিক ভাবে অবরুদ্ধ থাকতে থাকতে অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
এই বছরের মার্চে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, করোনাকালীন গত একবছরে প্রায় ১৪ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে; যা করোনায় মৃতের সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। আত্মহত্যাকারীদের বড় একটি অংশ হচ্ছে শিক্ষার্থী এবং করোনাকালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বেকারত্ব, ডিপ্রেশন, পারিবারিক কলহ ইত্যাদি ছাড়াও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলাও অনেক বড় একটি কারণ। অন্যান্য দেশে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, বাংলাদেশে ততটা দেওয়া হয়না। তাছাড়া বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কখনোই শিক্ষার্থীবান্ধব ছিলোনা। করোনাকালে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অনেক সিদ্ধান্তই শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এই সমস্যার সমাধান হিসেবে রয়েছে কাউন্সেলিং। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হয়তো এটি সম্ভব নাও হতে পারে, তারপরও চেষ্টা করতে হবে যেন প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাউন্সেলিং এর ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও খেয়াল রাখতে হবে, বিশেষ করে বাবা-মাকে এবং যেকোনো বিষয় নিয়ে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করতে হবে। শিক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে যে আত্মহত্যাই একমাত্র সমাধান নয়।
(প্রথম আলো নিউজ সোর্সঃ https://bit.ly/3vUlYbO)
মোঃ আবু সায়েম
ডিপার্টমেন্ট অফ একাউন্টিং
সেশনঃ ২০১৯-২০২০
